খুলনার সুন্দরবন উপকূলের কয়রায় প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনে পাউবোর বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড হয়ে এলাকার মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। একবার বাঁধ ভেঙে গেলে তা মেরামত করা এলাকার মানুষের পক্ষে দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ষাটের দশকে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বাঁধে সুদীর্ঘ সময় নিয়মিত মাটির কাজ না হওয়ায় বাঁধের বেশিরভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে নাজুক আকার ধারন করেছে। জরুরী ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবি এলাকাবাসির।
কয়রা উপজেলা জলবায়ু পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ অদ্রিশ আদিত্য মন্ডল বলেন, উপজেলার গোলখালি, আংটিহারা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙা, মেদেরচর, চরামুখা, হরিহরপুর, গাববুনি, কাটকাটা, গাজীপাড়া, কাশিরহাট, হাজতখালি, ৬নং কয়রা, ৪নং কয়রা, ঘাটাখালি, ২নং কয়রা, গোবরা, ঘাটাখালী, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট, লোকা, দশালিয়া, মঠবাড়ি, নয়ানি, শিকারিবাড়ির ওয়াপদা বাঁধের ৪০ কিলোমিটারের বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বেড়িবাঁধ নিচু ও চিকন হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের আগে এ সকল বাধে কাজ করা না হলে যে কোন মুর্হুতে এসব এলাকর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাাবিত হওয়ার আশংখা রয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে পাউবোর ১৩-১৪/১ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া নদীর খাসিটানা বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে দু’বছর দক্ষিন বেদকাশির হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি লানা পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ২৫ মে আরেকটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আইলার জলোচ্ছাসে পাউবোর ১৩-১৪/১ পোল্ডারের হারেজখালি, পদ্মপুকুর ও ১৩-১৪/২ পোল্ডারের পাথরখালি, মঠবাড়ি, শিকারিবাড়ি বেড়িবাঁধ ভেঙে একটানা তিন বছর উপজলা সদরসহ ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি লোনা পানিতে তলিয়ে বিপর্যস্ত হয় কয়রার জনপদ। দীর্ঘ সময় ধরে জোয়ার-ভাটা ওঠামানায় কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর ভাঙন প্রকট হতে থাকে। একইভাবে ২০২০ সালের ২০ মে অনুরূপ ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের কয়রা সদরের ঘাটাখালি, ২নং কয়রা, উত্তর বেদকাশির কাশিরহাট, হাজতখালি, রতœারঘেরি ও গাজীপাড়ার কপোতাক্ষ নদের পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে সবকিছুলন্ডভন্ড হয়ে যায়। কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়ার নদীর তীব্র ভাঙনে ৩০ কিলোমিটারের বেশি বাঁধ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে চরামুখা, মেদেরচর, মাটিয়াভাঙা, গাববুনির বেড়িবাঁধ ডিপিএমের মাধ্যমে সংস্কার করা হলেও সিডিউল অনুযাযি করা হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। এ সকল জায়গায় ড্যাম্পিংয়ে ফেলোনো জিওব্যাগে বালুর পরিমানও কম দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসী অনিয়মের বিষয়টি পাউবো কর্মকর্তাদের অবহিত করলেও কার্যক্ররি কোন ব্যবস্থা না করায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দক্ষিন বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামছুর রহমান বলেন, গত ১০ বছর যাবত শুনছি বিশ্বব্যাংক ও জাইকা নতুন বেড়িবাঁধ নির্মান করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সভা সেমিনারে বেড়িবাঁধ নিয়ে বহুবার কথা বলেছি, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। বার বার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক মানুষ সর্বশান্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। স্থায়ি বসবাসের জন্য তিনি সরকারের কাছে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জোর দাবী জানান। উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি বলেন, আম্ফানে বাঁধ ভেঙে গিয়ে কাশিরহাট, গাজীপাড়া, রতœারঘেরি ও হাজতখালি এলাকার ২০ একরের বেশি ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখানকার অর্ধশত পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতভিটা। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত কাশিরহাটের বাঁধ গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঈগল রিজ্্ড মেরামত সম্পন্ন করেছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছাড়া এখানকার মানুষের টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাউবোর সাতক্ষীরা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ সরকার বলেন, আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রার বাঁধ সেনাবাহিনীর সহায়তার ইতমধ্যে মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষ ঝুকিপুর্ন পাউবো টেকসই বাঁধ নির্মানে কাজ শুরু করা হবে।