কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছয়সূতী গ্রামের মা উমারানী দাসের সৎকারে বাধা দের তার পুত্র সন্তান উদয় চন্দ্র দাসসহ তারঁ লোকজন। অবশেষে থানায় অভিযোগের পর পুলিশের সহায়তায় ১ দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে শেষ কৃত্য সম্পূর্ণ হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায় ছয়সূতী গ্রামের চন্দন কুমার দাসের স্ত্রী, উমা রানী দাস পুত্র উদয় চন্দ্র দাসের অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ীতে বিষপান করে। পরে তার স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে মূমূর্ষ অবস্থায় বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। মারা যাওয়ার পর মঙ্গলবার বাজিতপুর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। পরে বুধবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। সনাতন ধর্মানুসারে যখন লাশের শেষ কৃত্য সম্পন্নের প্রস্তুতি নেয়। তখন নিহতের পুত্র উদয় চন্দ্র দাসের পক্ষে শান্তি কুমার দাসের নেতৃত্বে স্থানীয়রা শেষ কৃত্যে বাধা দেয়। নিহত উমা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় বা আদালতে মামলা না করার শর্তে বন্ড সই দিলে লাশের শেষ কৃত্য সম্পন্ন করতে পারবে। বন্ড সই না করলে লাশ সৎকার বা শেষ কৃত্য করতে দেয়া হবেনা। পরে তাদের চাপ সইতে না পেরে অবশেষে নিহতের অপর পুত্র সৌরভ দাস ও তার বাবা কুলিয়ারচর থানা পুলিশে জানালে পুলিশ এলে বাধাদানকারীরা সটকে পড়েন। পরে নিহতের স্বামী চন্দন কুমার দাস থানায় নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রজু করেন। লাশ সৎকারে বাধা এমন খবর শোনে ভৈরব থেকে সাংবাদিকরা বুধবার বিকেলে তথ্য সংগ্রহে ঘটনাস্থলে গেলে উদয় চন্দ্র দাসের লোকজন সাংবাদিকদের সাথে দূর্ব্যবহার ও লাঞ্জিত করে এবং সংবাদ না করতে হুমকি প্রদান করে।
এলাকাবাসি ও নিহতের স্বজনরা আরো জানায়, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দীর্ঘদিন যাবৎ নিহত উমারানীর ২ পুত্র সৌরভ চন্দ্র দাস ও উদয় চন্দ্র দাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় গ্রাম্য সালিসী বৈঠক করে ও সমাধান না হওয়ায়। তাদের বিরোধের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী চন্দন কুমার দাস জানান, তার পুত্র উদয়ের অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয়ে নিহতের পুত্র সৌরভ দাস জানান, তার ভাই জুয়া খেলে অনেক সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে এবং সে তার মা-বাবাকে নানাভাবে অত্যাচার ,নির্যাতন করে। তাই সম্পত্তি রক্ষার্থে তার বাবা তার নামে কিছু জমি লিখে দিয়েছেন। তার নির্যাতন সইতে না পেরে মা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এ ঘটনায় যেন আইনগত কোন ব্যবস্থা নিতে না পারি সেজন্য তার ভাই শান্তি দাসের নেতৃত্বে বন্ড সই দিতে চাপ দেয়। বন্ড সই না দেওয়ায় লাশ সৎকার ও শেষ কৃত্যে বাধা দেওয়ায় অবশেষে থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ এলে বাধাদানকারীরা পালিয়ে যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় ১ দিন পর শেষ কৃত্য সম্পন্ন করেছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী সালাহউদ্দিনসহ অনেকেই জানান,উদয়ের অত্যাচারে তার মা আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয়ে উদয় চন্দ্র দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মা তার ভাইকে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিয়ে তার বাসায় গিয়ে অপমান হয়ে বাড়িতে এসে অপমান সইতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ এ কে এম সুলতান মাহমুদ জানান, লাশ সৎকারে বাধা বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে নিহতের স্বামী ও পুত্র কে রাতে বাড়ি থেকে থানায় এনে স্বামী কে মামলার বাদী হিসেবে একটি আত্মহত্যার মামলা রাজু করা হয়েছে। লাশ সৎকারে বাধা না দিলে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের থানায় আনা হলো কেন ? এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।