টানা ছয় দিন ধরে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কুয়াশার দাপটের কারণে দেখা মিলছে না সূর্যের। কনকনে ঠান্ডায় কাবু মানুষ। ঠান্ডায় কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষেরা বিপাকে পড়েছে। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামে গরম কাপড়ের জন্য সচ্ছল ক্রেতারা যেমন দোকানে যাচ্ছেন, তেমনি স্বল্প আয়ের মানুষেরাও ভিড় করছেন পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজারে। ক্রমেই নন্দীগ্রাম উপজেলায় জমে উঠছে পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার।
‘খুঁইজা লন, বাইছা লন, খালি ৫০ টাকা, খালি ৫০ টাকা’ নন্দীগ্রাম পৌর শহরের ওমরপুর হাটে দোকানিদের এমন হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া বাসষ্ট্যান্ড ফুটপাতসহ বিভিন্ন মার্কেটে ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে বসেছেন পুরোনো গরম কাপড়ের পসরা।
কয়েকজন দোকানি বলেন, কয়েক দিন ধরেই শহরের প্রায় সব দোকানে কম-বেশি শীতের কাপড় কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে ছোট-বড়দের জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটার, হাত মোজা, কোট, টুপি সবই মিলছে এসব দোকানে।
উপজেলার বাঁশো গ্রামের সোয়েটার কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের দোকান থেকা জারের (শীতের) কাপড় কেনার ট্যাকা হামার নাই। পুরোনো কাপড়ের দোকান থেকা কম দামে সুইটার কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’ রাব্বি হোসাইন তিন মাসের মেয়ের গরম কাপড় কিনতে এসেছেন ওমরপুর হাটে। এ দোকান ও দোকান ঘুরে অবশেষে ১০০ টাকায় দুটি পুরোনো জামা কিনলেন।
ওমরপুরহাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন, এসব পুরোনো শীতের কাপড়ের গাঁট ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে কিনে আনতে হয়। ৮-৯ হাজার টাকার একটি গাঁটে ৪০০ থেকে ৪৫০ পিস গরম কাপড় থাকে। তবে কাপড়ের ধরনের ওপর গাঁটের দাম নির্ভর করে।
এদিকে পরিবহন চালকরা জানান, দিনের বেলায় কুয়াশার যে অবস্থা তাতে গাড়ি চালানোই দায়। কুয়াশায় গাড়ি জোরে চালানো যায় না, এতে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছিন্নমূল মানুষ আগুন পোহাচ্ছেন। ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশার চালকরা ঘন কুয়াশায় জবুথবু।