মোল্লাহাটে ফনি ভুষন মৃধা ওরফে মিত্র নামে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া উত্যক্ত/অশ্লীল আচারনের অভিযোগ করেছেন প্রতিবেশী এক গৃহবধূ। একাধিকবার ওই শিক্ষকের স্ত্রীর কাছে নালিশ দেয়ার পরও বেপরোয়া উত্যক্তের ঘটনায় সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ এবং গত ১৯ নভেম্বর বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনালে এ অভিযোগ/ মামলা করা হয়।
মামলার বিবরন ও ভিকটিম সুত্রে প্রকাশ-গাংনী গ্রামের মৃত কেষ্ট মৃধার ছেলে ৬৪ নং রহমত পাড়া এস এ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফনি ভুষন মৃধা/মিত্র প্রতিবেশী ওই গৃহবধু (৩৫)’কে প্রায় ২০বছর ধরে সিমাহীন উত্ত্যক্ত করে চলেছে। ওই ঘটনায় একাধিকবার ফণি ভুষনের স্ত্রীর কাছে নালিশ দিয়েছেন ওই গৃহবধু। এরপরও ওই শিক্ষক নিজেকে না সামলে বারবার ওই গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে এবং পথে-ঘাটে যেখানে-সেখানে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। গত ১৩/০৭/২০২০ তারিখ বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে জাপটাইয়া/জড়িয়ে ধরে এবং টানা হেছড়া করে। তখন নিজের ইজ্জত রক্ষার্থে নিরুপায় হয়ে এবং কৌশলে বাশের লাঠি দিয়ে ফণি ভুষণকে পেটাতে পেটাতে তার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায় ওই গৃহবধু। এরপর ফণি ভুষন তার স্ত্রী’র সামেন ওই গৃহবধুর পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে আর কোন বিরক্ত না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফণি’র স্ত্রী ও তার স্বামীর দায় নিয়ে বলেন, আর কোন দিন তোমাকে (গৃহবধু) বিরক্ত করবে না। এরপর ওই রাতেই প্রতিবেশী শিক্ষক প্রফুল্য মন্ডল ও তার স্ত্রী এবং ফণি ভুষনের স্ত্রীসহ জনৈক লিপু সরদার গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে তাকে মামলা না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং ভবিষ্যতে আর বিরক্ত করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর মাত্র কয়েক দিন বিরত থাকার পর গত ২৭/১০/২০২০ ইং একই গ্রামের বাবার বাড়ি হতে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে জনৈক কমল দের বাড়ির সামনে ফাকা যায়গা পৌছলে গৃহবধুকে একা পেয়ে টানা হেছড়া করে ফনি ভুষন। এবার পায়ের জুতা খুলে পেটান ফণি ভুষনকে। এরপর তিনি অভিযোগ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। ওই অফিস থেকে কাঙ্খিত কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গত ১৯ তারিখে এ মামলা করেন গৃহবধু। গৃহবধু আরো জানান তিনি ওই গ্রামেরই বধু এবং মেয়ে, বিয়ের পূর্ব থেকেই (প্রায় বিশ বছর ধরে) বিভিন্ন উপায়ে অশালীন/অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছে। শুরু থেকেই মান সম্মান বিবেচনায় ও লজ্জায় কারো কাছে না বলে কৌশলে তাকে এড়িয়ে চলছেন এবং মামা বলে সম্বোধন করেন তাকে। তবু সে নিজেকে সামলানো তো দুরের কথা দিন দিন আরো বেশী নির্লজ্জ ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি এর দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবী করেন।
শিক্ষক ফণি ভুষন নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন-আমি (ফণি ভুষন) শুনলাম যে, আমি নাকি মোল্লাহাট যেয়ে চা দোকানে বা কোন অফিসে কোন মিটিংএ বলেছি ওই মহিলা খারাপ ই-টি, কিন্তু এই কথা শুনে ওই মহিলা কষ্ট পাইছে। এ ছাড়া তার সাথে আমার কোন রূপ বিরোধ নাই।
সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে ফণি ভুষনের ডাকে আসা প্রতিবেশী ও শিক্ষক প্রফুল্য মন্ডল বলেন-যে মহিলা অভিযোগ করছে সে ইতি পূর্বে এধরনের অভিযোগ অন্য কারো বিরুদ্ধে করে নাই এবং কখনও তার কোন খারাপ চলাফেরা চোখে পড়ে নাই। অভিযোগের ঘটনা কিছু ঘটলে ঘটতেও পারে। অনুরূপ বলেন ফণি ভুষনের ডাকে আসা জনৈক লিপু সরদার।