চাঁদাবাজির মামলায় উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত জামিনের কপি দিয়ে রাজশাহীর নিম্ন আদালতে জামিন পেতে আবেদন করেছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার লিজা। বুধবার (১৮ নভেম্বর) রাজশাহীর চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত বৃহস্পতিবার (আজ) পুনরায় লিজাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সার্বিক বিষয় নিয়ে বুধবার রাতে রাজশাহী নগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন লিজা।
সংবাদ সম্মেলনে লিজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বামী (এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক) মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যা একেবারেই হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি যেন স্ত্রীর দাবি নিয়ে তাঁর কাছে দাড়াতে না পারি সে কারণেই মূলত হয়রানী করতে আমার বিরুদ্ধে এই মামলা করিয়েছেন। এসব নাটক বর্তমান দেশের সচেতন জনগণ এখন বোঝে। তাই এমন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রশাসনের আশ্রয় নিলেও জনগণকে কিন্তু আর বিশ্বাস করানো যাবেনা। যে মামলার প্রেক্ষিতে প্রায় ৫ মাস থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এখন আমার নিজেরও নিরাপত্তা নেই। যে কোন মুহূর্তে তিনি আমাকে পৃথিবী থেকে নাই করে দিতে পারেন। কালকে (আজ) নি¤œ আদালত আমাকে জামিন না দিয়ে কারাগারেও পাঠাতে পারেন। সে কারণেই ন্যয় বিচার পেতে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ সময় সাংবাদিকদের মাঝে প্রশ্ন ছুড়ে লিজা বলেন, আমাকে নাকী তিনি (এমপি এনামুল) তালাক দিয়েছেন, কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও কেন সেই তালাকের কপি হাতে পাচ্ছিনা। তাহলে তালাকের বিষয়টিও কী মিথ্যা? আপনারাই ভাবুন একজন রানিং (চলতি) এমপির বাসায় গিয়ে আমি কী চাঁদা দাবি করতে পারি? আর যদি সেই অপরাধ করি, তাহলে তখনি কেন তিনি আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন না? আমি তার স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার পর কেন এমন অভিযোগ তুলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করালেন। তাঁর মতো একজন পাওয়ারফুল এমপি, তাঁর এত লোকবল, তাঁর কথায় নাকি প্রশাসন উঠে বসে। যদি তা-ই হয়, তাহলে আমার মতো সাধারণ এক মেয়ে চাঁদা চাইলো আর তিনি ছেড়ে দিলেন?
লিজা আরও বলেন, আমি কি করবো, কোথায় যাবো, বুঝতেছিনা। আমাকে মিথ্যে মামলায় হ্যারেজম্যান্ট (হয়রানি) করা হচ্ছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত হলে আমাকে বলেছিলেন, তুমি ফেসবুক থেকে সমস্ত কিছু সরিয়ে ফেলো এবং লেখো আমাদের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। তাহলে আমি তোমার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিবো। এরপর আমি তার কথা অনুযায়ী ফেসবুকে লেখেও ছিলাম। আমাদের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি তার কথা রাখেন নি। উল্টো জনগণের কাছে আমাকে মিথ্যাবাদি প্রমানিত করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এখনও মিথ্যা মামলায় হ্যারেজম্যান্ট (হয়রানি) করছেন। আপনাদের মাধ্যমে ওঁর (এমপি এনামুল) কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে, করোনায় আক্রান্তকালে আমাকে দেয়া কথা রক্ষা করুন, মিথ্যা মামলাটি তুলে নেন। এ সময় লিজার দাবিকৃত স্বামীর (এমপি এনামুল) নম্বর থেকে আসা সকল তথ্য প্রমানাদি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন আয়শা আক্তার লিজা। এ নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে। গত ৫ জুন এমপি এনামুলের এপিএস আসাদুজ্জামান ওই মামলাটি করেন।