সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে খেলনা পিস্তল দিয়ে ছিনতাইকালে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন আলিম-লাম-মিম ভাটার মোড় এলাকা থেকে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছেন ওই চক্রের সাথে থাকা আরো দুইজন। আটককৃতরা হচ্ছে- গোদাগাড়ী উপজেলার কদমাপাড়া এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন রাজু (২২) ও রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন শিরোইল কলোনি ২নং গলীর মুজাহিদুল ইসলামের ছেলে আরাফাত ইসলাম রুষ্ট (১৯)। সোমবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া ওই দুই ব্যক্তির নাম পরিচয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে সোমবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, আরএমপির বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে রোববার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়। তখন কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে দুইজন পালিয়ে যায়। এরপর সেনা সদস্য হিসেবে মিথ্যা পরিচয়দানকারী এই দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংবলিত সেনাবাহিনীর পোশাক ও বুট জুতা, ১টি খেলনা পিস্তুল, দুইটি ফোল্ডিং চাকু, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি রশি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন- অপরাধ সংগঠিত করার সময় তারা প্রথমে মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে সেনাবাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড প্রদর্শন করে। এরপর খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে লুটপাট করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তারা রশির মাধ্যমে মোটরসাইকেল আরোহীদের গতিরোধ করে তাদের কাছে থাকা টাকা, মোবাইলসহ মোটরসাইকেলটিও কেড়ে নেয়। তাদের সাথে থাকা পলাতক অন্য দুজন রশি দিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর গতিরোধের কাজ করে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর পোশাক পরিধান করে আইডি কার্ড ঝুলানোসহ হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে ছবি। আর সেনাবাহিনীর ট্রেনিং-এ অংশগ্রহণকৃত অন্যের ছবি এডিট করে নিজের মুখ বসিয়েছেন। এসব এডিটকৃত সেনাবাহিনীর ছবি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে আদান-প্রদান করে তারা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে একাধিক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরএমপি কমিশনার মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক স্যারের নির্দেশক্রমে বিশেষ অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে উল্লেখ করে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অপরাধের খবর পাওয়া যাায়। তবে রাজশাহী মহানগরীতে এ ধরনের অপরাধ করে আর কেউ পার পাবেনা। সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে বর্তমান কমিশনার স্যার কঠোর নির্দেশনা জারী করেছেন। বর্তমান কমিশনার স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসীসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে আরএমপির জোরদার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র।