বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আদালত থেকে মামলার রায়ে চার বছরের সাজা/দন্ডাদেশ প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরী কাম প্রহরী’র স্থলে ওই ব্যক্তির আপন ভাগ্নে’কে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার ২৩ নং পূর্ব দারিয়ালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী আঃ আজিজ মোল্লা গত ২৮ অক্টোবর বাগেরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে জেল হাজতে যাওয়ার পর তার আপন ভাগ্নে তৌহিদুল’কে এ অনৈতিক সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুসলিমা ও সোনিয়ার বিরুদ্ধে।
বাগেরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং জি,আর ৩৫/১৬ (মোল্লাহাট) এর গত ২৮/১০/২০২০ ইং তারিখের রায়ে প্রকাশ-দারিয়ালা গ্রামের মৃত সুলতান মোল্লার ছেলে মোঃ আজিজ মোল্লার বিরুদ্ধে ৩২৬ ধারার অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় তার চার বছর সশ্রম কারাদ- ও ৫হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদ-ে দন্ডিত করা হয়। মোঃ আজিজ মোল্লা ওই দিন থেকে কারাগারে আছেন। সরকারী নীতি/বিধান মতে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরকারী চাকুরী করার অধিকার রাখেন না। তাই তাকে চাকুরিচ্যুত করে ওই পদ শুন্য দেখানোর/ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। সরকারের বিধান উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তথ্য গোপন করে মোঃ আজিজ মোল্লার আপন বোনের ছেলে তৌহিদুলকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেন ওই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক মুসলিমা ও সোনিয়া। স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র জানায়-আজিজ মোল্লাকে আপীলের মাধ্যমে জামিনে বের করার চেষ্টা চলছে। সে ফিরে এসে যাতে ওই চাকুরী করতে পারে সে জন্য ওই দুই শিক্ষক প্রভাবিত হয়ে এ অনৈতিক সুযোগ দিয়েছে।
এবিষয়ে মোঃ আজিজ মোল্লার স্ত্রী লাভলি বেগম বলেন-তার স্বামীর সাজা/জেল হয় গত মাসের ২৮ তারিখে। এরপর থেকে ওই বিদ্যালয়ের হেড ম্যাডাম (শিক্ষক) সোনিয়ার অনুমতিতে তার স্বামীর দায়ীত্ব পালন করছে তাদের ভাগ্নে তহিদুল।
শিক্ষক সোনিয়া বলেন-তিনি অনুমতি দেন নাই, কারণ তার সদ্য একটি সন্তান হেয়েছে, যে কারণে তিনি আপাতত দায়িত্ব পালকন করছেন না। আজিজের স্থলে তার ভাগ্নে তহিদুলকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মুসলিমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে মঠোফোনে জানতে চাইলে শিক্ষকম মুসলিমা বলেন-বিদ্যালয়ে আসলে আপনাদের সাথে কথা হবে। ফোনে বলা যাবে না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, প্রথমে তিনি না জানলেও মাত্র দুইদিন আগে জানতে পারছেন যে, আদালতের রায়ে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরীর সাজা হয়েছে, সেহেতু তাকে আর চাকুরীতে রাখা সম্ভব না, তাই তার বিষয়ে বিধিমোতাবেক ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।