রাজশাহীর তানোরে সন্ত্রাসি এক ভাইয়ের হাতুড়ির আঘাতে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে পঙ্গুত্ব জীবন-যাপন করছেন অসহায় সাংবাদিক ইমরান। সম্প্রতি থানা পুলিশের মদদে এবার ওই সাংবাদিকের জমি দখল ও তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সন্ত্রাসি মোওদুদ। এনিয়ে তানোর থানায় (১২ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক ইমরান। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে এরআগে গত ৯ নভেম্বর ও ১২ নভেম্বর পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি, এসপি ও সার্কেল এএসপি বরাবর অভিযোগ ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার জিওল-চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব হাজীর পুত্র মওদুদ আহম্মেদ ওরফে মধু (৩০)। তিনি ছোট থেকেই বদমেজাজী, উশৃংখল, দুষ্টু, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসি প্রকৃতির ব্যক্তি বটে। তার সন্ত্রাসি কার্যকলাপের শিকার হয়ে দৈনিক যুগান্তর ও রাজশাহী সংবাদ পত্রিকার তানোর প্রতিনিধি সাংবাদিক ইমরান হোসাইন বিগত ৪ বছর ধরে পঙ্গু অবস্থায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে জীবন দশার আশঙ্কায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
সম্প্রতি সন্ত্রাসি মোওদুদ ইমরান সাংবাদিকের বর্গাদারকে জমি চাষাবাদ করতে নিষেধ করে মেরে ফেলার দেন। বিষয়টি নিয়ে ইমরান তার নিষেধ করার কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে আগামী ধার্য্য তারিখে মামলা তুলে জমি চাষাবাদ করতে বলে। নইলে ইমরানকে মেরে ফেলে সব কিছু সন্ত্রাসি মোওদুদ দখলে নিবে বলে অভিযোগে বলা হয়।
এরআগে জেলহাজত থেকে সন্ত্রাসি মওদুদ বেরিয়ে গত ২১ আগস্ট সাংবাদিক ইমরানের নামীয় ধানী জমি দখলের উদ্দেশ্যে সিমানা পিলার গাড়ে। বিষয়টি নিয়ে তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসানকে অভিযোগ করা হয়। ওসি জমি-জমার ব্যাপার বলে এড়িয়ে যান। ইমরান নিরুপাই হয়ে তার সম্পত্তি রক্ষার্থে ওসিকে ও তৎকালিন সময়ের তদন্তকারী এসআই আজিজুলকে ৪ হাজার টাকা দেন। এতে ওসি সন্তুষ্ট হয়ে মোবাইলে সন্ত্রাসি মওদুদকে থানায় ডেকে নেন। পরে থানায় জামাই সম্মানে আপ্যায়ন করিয়ে মওদুদকে ইমরানের সম্পত্তিতে যেতে নিষেধ করেন ওসি।
এঘটনার বেশ কয়েক মাস আগ থেকে পিতা-মাতার দেয়া জমি সন্ত্রাসি মওদুদ জোর পূর্বক দখলে নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু জমির ফসল কিংবা বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বাবদ কোন টাকাণ্ডপয়সা দেয় নাই। এ অবস্থায় পিতা বছরে ১৫ হাজার টাকা চান। কিন্তু সন্ত্রাসি মোওদুদ কোন টাকা না দিয়ে পিতাকে হুমকি দিয়ে বলে জমির টাকা নিয়ে থানা পুলিশ করা হলে ইমরানের মতো মেরে পঙ্গু করে ঘরে ফেলে রাখবো।
নিরুপাই পিতা ইয়াকুব হাজী গত ১২ অক্টোবর সোমবার সকালে সন্ত্রাসি মওদুদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে পরদিন সকালে হাফিজ নামের এএসআই তদন্তে গিয়ে খরচাপাতি দাবি করেন। সম্মান রক্ষার্থে ৫শ টাকা দেয়া হয়। এঘটনার বেশ কয়েকদিন পর গত ২১ অক্টোবর থানায় শালিস বসান ওসি। শালিসে সাংবাদিক সাইদ সাজু ও টিপু সুলতান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পিতাকে বছরে ১৫ হাজার টাকা ওইদিন বিকেলে দেবে মর্মে সন্ত্রাসি মওদুদ স্বীকার করে। কিন্তু পরে আর কোন টাকা দেয়নি। বিষয়টি ওসিকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
পরে অনুরোধ করা হলে সন্ত্রাসি মওদুদের বিরুদ্ধে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নিকট অভিযোগ দেবার পরামর্শ দেন ওসি। ওসির পরামর্শে গত ২৮ অক্টোবর সকালে ইউএনও’র নিকট অভিযোগ দেন ইয়াকুব হাজী।
এদিকে, ইউএনও’র নিকট অভিযোগের খবর পেয়ে রাস্তার মাঝে পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হাত-পা ভেঙ্গে ঘরে বন্দি রেখে হত্যা করার জন্য শাসন-গর্জন করে সন্ত্রাসি মওদুদ। বিষয়টি মোবাইলে থানার ওসিকে জানানো হয়। ওসি পিতার বাড়িতে গিয়ে সন্ত্রাসি মওদুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উল্টো পিতা ইয়াকুব হাজীকেই অপমান-অপদস্থ্য করেন।
এহেন পরিস্থিতিতে একদিকে সন্ত্রাসি মওদুদের দ্বারা শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন। অপরদিকে ওসির অপমান-অপদস্থ্য। শেষ বয়সে বৃদ্ধ পিতা এসব অন্যায়-অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে উদগ্রিব হন পিতা ইয়াকুব হাজী। এ ব্যাপারে যোগাযাগ করা হলে সন্ত্রাসি মোওদুদ আহম্মেদ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কোন কথা না বলে এড়িয়ে গেছেন।
তানোর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে আপোষের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে মোওদুদ মানেনি। তবে, সাংবাদিক ইমরানের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মোওদুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।