বেশ কিছুদিন দিন হতে রাজশাহীর নারী পেপার বিক্রেতা খুকিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তার কর্মময় জীবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে অনেক। এসব দেখে সবার নজর এখন খুকির দিকে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল ও পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার শেখ এহসান কবিরও এসব দেখে তার বাড়ীগিয়ে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে গিয়ে তারা বুঝতে পারে খুকির অর্থের কোন লোভ নেই নিজেই রোজগার করে খেয়ে পড়ে বাঁচতে চান। এসব শুনে তারা খুবই মুগ্ধ হয় এবং তাকে টাকা সহায়তা দিতে চাইলে সেটাতেও খুকি না করে। তবে তারা বুঝতে পারে তার কিছুটা মানসিক ভারসম্যহীন সমস্যা আছে তার বাড়ীতে দেখাশোনার জন্য একজন প্রয়োজন এবং বাড়ী সংস্কার করাতে হবে। জেলা প্রশাসক এসব সংস্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে তার বাড়ীর কাজ চলছে। জেলা প্রশাসন বাড়ী পরিদর্শনে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুকির দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানিয়েছেন।
বাংলার জনপদের প্রধান প্রতিবেদক এম. আবদুল বাতেন ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার খুকির বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। আলাপকালে তার কর্মময় জীবনের কথা ছাড়াও পারিবারিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া ও তার চলতে ফিরতে সমস্যার কথা জানান। ইতোমধ্যে খুকির পেপার বিক্রি করে নিজের রোজগারে খাওয়া দাওয়া, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কিছু নারীদের গাভী ও সেলাই মেশিন কিনে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের সাইকেল কিনে দেবার কথা জেনেছেন।
তবে তিনি আলাপকালে বারবার তাকে কেউ মারবে, মারছে প্রচন্ড ভয়লাগে মারার কারণে, এসব কিছুক্ষণ পরপর বলছিলেন। কে কেনো তাকে মারবে বা মারছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রেন্টু তাকে মারবে, সে খুব খারাপ, রাতে বাড়ীর ছাদে বসে থাকে তাকে বসতে নিষেধ করে দিবেন এসব বলছিলেন। রেন্টু কেনো তাকে মেরেছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাজশাহীর মিনু ভাইকে চিনেন? ৩ টা পেপার নিয়ে তাকে ১০ টাকা দিয়েছিলো তাই রেন্টু বলেছে কেনো তার কাছ হতে টাকা নিলি?। এই বলে তাকে মেরেছিলো। খুকি সাংবাদিকদের প্রশ্ন রেখে বলেন, আচ্ছা ভাই বলেন তো টাকা নেওয়া কি অপরাধ? আলাপের মাঝে মাঝে আবার বলেন আচ্ছা বলেন তো রাজশাহীর মেয়র লিটনের জন্মস্থান কোথায় এটা কি জানতে চাওয়া অপরাধ এটার জন্যই ওরা মারে। রেন্টু তাকে মারে, যখন তখন মারে, চা খেতে দেখলে। তবে রেন্টুর বাসা কোথায় সঠিক চেনেন না বলে জানান। শুধু রেন্টু না তালাইমারির চা বিক্রেতা তাকে মারে এছাড়াও তাকে রাস্তাঘাটে কেউ কেউ তার সাথে খারাপ আচরণের কারণে তাকে হয়তো এসব মানসিক যন্ত্রণা তাকে পিড়া দেয়। তবে খুকি বারবার বলছিলেন ‘‘এমন মারে ভাই, খুব মারে, ভয়লাগে, পায়ে মেরে ফুলিয়ে দিয়েছে, সবাই মারে’’। এসব মনের দুঃখ থেকে তিনি একটি কবিতা লিখেছেন বলে কবিতাটি শোনান। কবিতাটি হলো,
আমি স্বার্থপর আমি হিংসুট, আমি অমানুষ, আমি একখন্ড মোমবাতি, কখন যে নিভে যাবো জানিনা।
আমি যখন বেগম রোকেয়ার মতো হতে চাই,তাই বলি বেগম রোকেয়া জাহিদ স্যারের অনুপ্রেরণায় অনেক বড় হয়েছো আমি বড় হবো।
তবে এই সময়ে খুকির সংগ্রামী জীবনের বাসস্থানের পাশাপশি তার চিকিৎসা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। তাহলে তার ভালোলাগা ও বেঁচে থাকার আগামীর পথ সুন্দর হতে পারে।