অভাবের সংসার চলতে চাইনা। পিতা শমশের আলী মন্ডল একার আয়ে ৬ সদস্যের সংসার চালানো দায়। সেই কারণে মা সফেজান খাতুনের পরামর্শে আট বছর বয়সে মানিক হোসেন তিন সন্ধা পেট ভাতায় স্থানীয় হোটেলে কাজ নেয়। তবে হোটেল মালিক তার কাজের বিনিময়ে কিছু টাকা দিতেন। এই টাকা পিতার সাংসারে কাজে লাগাতো।
ভাই বোন বড় হতে থাকায় পিতার সংসারে খরচ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সংসারে আভাব দিন দিন বাড়তে থাকে। নিরুপায় হয়ে পড়ে। সংসারে অভাব লাঘবের জন্য মানিক হোটেলে কাজ ছেড়ে ১৫ বছর বয়সে কিছু টাকা নিয়ে হাট-বাজারে সবজির ব্যবসা শুরু করেন।
পাশাপাশি পিতার দিনমুজুরের কাজ করতো। সপ্তাহে ৫ দিন বিভিন্ন হাট-বাজারে সবজির বিক্রি করে সংসার ভাল চলতো। সবজির ব্যবসার ১ বছরের মাথায় দাশুড়িয়া কাঁচা সবজির মুকামে যায় মানিক। বাইসাইকেল যোগে সবজি নিয়ে ফেরাব পথে ঈশ্বরদী আলহাজ¦ মিলে কাছে হঠাৎ মাথা ঘুরে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মানিক। স্থানীয়রা তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবন্থা করে দেন। ততক্ষণে তার শরীরের ডান হাত ডান পা অবস হয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে ্র ভর্তি করে বাড়ির লোকজন।
হাসপাতাল থেকে ফিরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসকের পাশাপাশি কবিরাজি চিকিৎসা নেয়। টাকার অভাব তেমন ভাল চিকিৎসা করাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে তার পা কিছুটা ভালো হলেও ডান হাত অকেজো হয়ে যায়। মানিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সংসারে নেমে আসে এক নির্মমতা। দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। কিন্তু এত কিছুর পরেও মানিক ভেঙ্গে পড়েনি। সে ভিক্ষাবৃত্তি না করে নতুন কর্ম করে বাচাঁর স্বপ্ন দেখছে মানিক।
মানিক ঠিক করলেন কাঁধে ঝুড়ি নিয়ে বাদাম বিক্রি করবেন। কিন্তু নিজ এলাকা লালপুরে বাদাম বিক্রি না করে পাশে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরে বাদাম বিক্রি করতে শুরু করেন। তারপর থেকে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে সকালের খাবার খেয়ে ভ্যান যোগে এসে বাঘা মাজার, বাজার, উপজেলা চত্বর, বাসষ্ট্যান্ড, হাসপাতাল, নারায়ণপুর এলাকায় ৪-৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ৯-১০ কেজি বাদাম অকেজো বাম হাত দিয়ে বিক্রি করেন। তাই এই এলাকায় বাদাম বিক্রেতা হিসাবে মানিককে সকলের চিনে। তার প্রতিদিন ২৫০-৩০০ টাকা লাভ হয়। এর মাঝে মুর্শিদাকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। তাদের ১১ বছর সংসার জীবনে ৮ বছর বয়সের মাহি হোসেন নামের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে মানিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।
মানিকের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামে। তার ২ ভাই ৪ বোন। পৈত্রিক ৬ কাঠা জমি রয়েছে। এই জমি ভাই বোনে ভাগ করলে মানিক ২ কাঠার পাবেন। ছোট ভাই মুক্তার ১৪ বছর বয়সে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। বিয়ে দিয়েছেন ৪ বোনের। বড় বোনের সাংসারিক অবস্থা ভাল। বড় বোন ও দুলাভাইয়ের সহযোগিতায় ৩ রুমের আধাপাঁকা ঘর করে দিয়েছেন। এখন মানিকের বয়স ৩৫ বছর। মা মারা গেছে ৭ বছর আগে। পিতার বয়স ৭৫ বছর। পিতা অসুস্থ্য। বার্ধ্যকজনিত নানা রোগে ভুগছেন। পিতার প্রতিদিন গড়ে ৩০ টাকার ওষুধ লাগে।
তবে মানিকের হাতে, ঘাড়ে ও মাজায় প্রতিনিয়ত যন্ত্রনা করে। তাকেও ৩৫-৪০টাকার ওষুধ খেতে হচ্ছে। এ আয়ে চলা খুুুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ৪-৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ১৭ বছর যাবত বাদাম বিক্রি করা, তার শরীরে পেরে উঠছেনা।
তাই মানিকের চাওয়া কোন বৃত্তবান সহৃদয় ব্যক্তি সহযোগীতায় এগিয়ে আসলে পেশা পরিবর্তন করে বাড়ির পাশে ছোট্ট একটি মুদিখানা দোকান দেয়ার ইচ্ছা। তাহলে বাঁকি জীবনটা ভালভাবে অতিবাহিত করতে পারতো। মানিকের বিকাশ নম্বর ০১৭৫০-৮৮৬৬৪৯ (ব্যক্তিগত)।