চার দফা বন্যায় সারিয়াকান্দির কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাটসহ বিভিন্ন ফসল দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যমুনার চরাঞ্চল গুলোতে বিভিন্ন ফসলের চাষ করেছেন। ক’দিন আগেই যেখানে বন্যার পানি থৈ-থৈ করেছে আজ সেখানে সবুজ ফসলের সমারহে ভরে উঠছে। গাইঞ্জা ধানসহ বিভিন্ন সোনালী ফসল কৃষকদের আগোমনি বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে ও উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর চার দফায় বন্যা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাট ও ধান ফসল। এ দুই ফসলের ক্ষতিতে চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। চাষীদের বড় রকমের এই ধাক্কা থেকে কাটিয়ে উঠতে চরাঞ্চল গুলোতে বিভিন্ন ফসল করা হয়েছে। তবে বিল এলাকায় ধানসহ সবচেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে টমেটো বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি, তরি-তরকারি ও লাউ-কুমড়ার আবাদ। আর চর এলাকায় করা হয়েছে গাইঞ্জা ধান, ধনিয়া পাতা, গম, ভুট্টা, কালো জিরা, তিল, তিশি, জাউন,কাউন থেকে শুরু করে এমন কোনো ফসল নেই যে করা হয়নি।
কৃষি অফিস জানায়ঃ ৩ হাজার ৮শত হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের গাউঞ্জা ধানের চাষ করা হয়েছে। কেউ বা বীজ বপন করে কেউ বা চারা গাছ রোপন করে এই ধান চাষ করেছেন। নরম পলি মাটিতে বিনা চাষে এ ধানের আবাদ যেন চরাঞ্চলের কৃষকদেরকে শুভ সংবাদ দিয়ে যাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই এ ফসল কৃষকদের ঘরে উঠবে। এবার এ ধানে বামপার ফলনে আশা করছেন চাষীরা। উচুঁ-নিচু ঢালু চরে এ ধানের আধা-পাকা শীষ বাতারে দোল খাচ্ছে। তা দেখে চাষিদের মন অনেকটায় জুড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও মরিচ চাষ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭০৫, সরিষা ৫২০, চিনা বাদাম ২৪০, পিয়াজ কন্দ ৫৪০, গম ১০০, ভুট্টা ৬৫০, মিষ্টি আলু ৮০, গোল আলু ৮০, খেসারী কালাই ৩৫০, মসুর ডাল ১১০, রসুন ৩৫, ধনিয়া ৭, বেগুন ৫, কালো জিরা- ৫, তিল ১৫, কলা ২৫, খেরাচী ৫, নেপিয়ার ঘাস ১০, শাক-সবজি ৭৭৫ হেক্টর জমিতে এরইমধ্যে আবাদ করেন। এসব আবাদ এখন সবুজে সবুজে ভরে উঠছে চর এলাকার চারিদিক। যে দিকে তাকানো যায় কেবল সবুজের সমারহ চোখে পড়ছে। ১২০টি চরের প্রায় ৪৫ হাজার কৃষক এসব চাষাবাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান। দল বেধে কাজ করা সময় কৃষকদের মধ্য থেকে হরেক রকম গানের সুর ভেসে আসছে।
কণিবাড়ী ইউনিয়নের মুলবাড়ী চরের কৃষক ফমিজ উদ্দিন বলেন, আমরা এখন খুব ব্যস্থ সময় পার করছি। স্থানীয় ভাবে শ্রমিকের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় উত্তরের জেলা যেমন গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট থেকে শ্রমিক ডেকে এনে কাজ করাতে হচ্ছে। ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কর্মযজ্ঞ।
সদর ইউনিয়নের বাটির চরের মোখলেছ জানান, বন্যার পরবর্তী চাষ করা বিভিন্ন ফসলের মধ্য গাইঞ্জা ফসলের আবাদ সবচেয়ে বেশি ভাল মনে হচ্ছে। ধানের শীষ দেখে মনে হচ্ছে এবার বামপার ফলন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হালিম বলেন, চরের লোকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমিক। তাদের দিন নাই রাত নেই চরের ফসলের পিছনে শ্রম দিতে থাকেন। এজন্য বন্যায় ৩/৪ মাস ফসলাদি তেমন একটা না হলেও এ মৌসুমে ফসল করে তারা লাভবান হয়ে থাকেন।
ক্যাপশনঃ সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল ফসলে ভরে ওঠেছে। বাগবেড় চরের গাইঞ্জা ধানের শীষ দোল খাচ্ছে।