রাজশাহীর বেসরকারি শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথক দাবি নিয়ে নগরীতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে। শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এখন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে মাইগ্রেশন করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মেডিকেল কলেজটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকুক। আর এ দাবিতে একই সময়ে নগরীর আলুপট্টিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জানা গেছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘন করার দায়ে সরকার কর্তৃক শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কলেজে এসে পৌঁছেছে। ওই চিঠিতে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মাইগ্রেশন করার ব্যবস্থাগ্রহণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে নগরীতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন হয়।
সূত্র মতে, শাহমখদুম মেডিকেল কলেজে ২০১৪ সাল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। বর্তমানে সাতটি ব্যাচে ২২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির দাবি জানাচ্ছেন। যে দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। এ সময় তারা বলেন, শাহমখদুম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হয়েছে। তাদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়েছিল। বাংলাদেশে আর যেন এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠে। আর কেউ যেন প্রতারিত না হয়। তারা জানান, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তাদের ইন্টার্নশিপ হয়নি।
আর এমন প্রতারণার জন্য শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনের শাস্তি দাবি করে বক্তারা বলেন, মনিরুজ্জামান স্বাধীন একজন আউলিয়ার নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। কিন্তু তিনি সেখানে ইবলিশের মতো কার্যক্রম চালিয়েছেন। যে কারণে তার শাস্তি হওয়া উচিত। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্বাধীনের শাস্তির দাবিতে নানা শ্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ বলেন, তারা সন্তানকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্নে প্রচুর টাকা দিয়ে শাহমখদুম মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন। কিন্তু সেখানে কোন পড়াশোনাই হয় না। শিক্ষার্থীরা কিছুই শিখতে পারে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সঠিক। তবে তাদের সন্তানের জীবন যেন অনিশ্চিত না হয়ে পড়ে সেজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন- আবদুর রউফ খান রতন ও গোলাম ফারুক প্রমুখ। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন- প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ, শিক্ষার্থী শাকিলা দিল আফরোজ মিষ্টি, রিয়াজুল হাসান ও মেহেদী হাসান প্রমুখ।
এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধনে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে তারা বেকার হয়ে পড়বেন। ফলে তাদের অসহায় জীবনযাপন করতে হবে। এ কারণে তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।