বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে নব্য জেএমবির ৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চ-িহারা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিরবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা পুলিশের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানা রাজশাহী বিভাগের ডিআইজি মো. আবদুল বাতেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার তরশ্রীরামপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. তানভীর আহম্মেদ ওরফে আবু ইব্রাহীম, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার জগতপোড়া গ্রামের গোলাম সারোয়ারের ছেলে মো. জাকারিয়া জামিল, ময়মনসিংহের চকশ্যামরামপুরের মো. আবদুর রহমানের ছেলে মো. আতিকুর রহমান ও একই এলাকার মো. আবু সাঈদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চ-িহারা এলাকায় সমবেত হয়ে জঙ্গি তানভীর ও জাকারিয়া নাশকতা পরিকল্পনা করছিলেন। এই সংবাদ পাওয়ার পর বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে ওই স্থান থেকে তানভীর, জাকারিয়া, আতিকুর ও সাঈদকে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ৬.৬৫ বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, ২ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ওয়ানশ্যুটার গান, দুইটি কার্তুজ, একটি চাপাতি, এক কেজি বিস্ফোরক দ্রব্যসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তানভীর সংগঠনের নব্য জেএমবির আইটি শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। চলতি বছরের শুরুতে আশুলিয়ায় তানভীরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জঙ্গিবাদ বিষয়ক বই, ড্রোন তৈরির সরঞ্জামসহ তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় স্ত্রীহ তানভীরের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পলাতক ছিলেন তিনি।
আর জাকারিয়া নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান। জঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনা তিনি আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করতেন। জাকারিয়াও আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার আসামী। তিনিও পলাতক ছিলেন।
আতিকুর ও সাঈদ নব্য জেএমবির সদস্য। আতিকুর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি সংগঠনে নতুন সদস্য ও অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। আর আবু সাঈদ যুদ্ধ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল বাতেন জানান, গ্রেপ্তার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।