বাগেরহাটের চিতলমারীতে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচসহ সবজির বাজার উর্ধ্বমুখী। দিন দিন বাজারে চড়ামূল্য স্থায়ীরুপ ধারণ করায় সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষেরা। দেশে কোভিড-১৯ মহামারি আসার পর তারা কাজ হারিয়ে আরো বেকার হয়ে পড়েছে। আগে সপ্তাহ ধরে কাজ চলতো তাতেও টানাপোড়েনে চলত সংসার। এখন সপ্তাহে কোনরকম ২/৩ দিন কাজ করে যে অর্থ পায় তাতে নিয়ন্ত্রণহীন এই সবজি বাজারে গেলে তাদের নাভিশ্বাস উঠে।
"নিম্ন আয়ের মানুষেরা সবজি বাজারে আসলে দরদাম শুনেই অনেকে ফিরে যায়। কেউ কেনাকাটা করলেও আগের মতো আর ব্যাগ ভরেনা" এমনটাই জানালেন কাঁচা বাজার করতে আসা খড়মখালী গ্রামের শ্যামা প্রসাদ তরফদার।
নিয়ন্ত্রণহীন উপজেলা বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৮৫ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, আলু ৪৫ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, পাতাকপি ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, প্রতিহালি কাচাকলা ৫০ টাকা, বিচিকলা ৩০ টাকা ও প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং চালকুমড়া ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা দিনমজুর হান্নান বিশ্বাস বলেন, "করোনা ভাইরাস আসার আগে পুরো সপ্তাহ কাজ করতাম এখন অপরিচিত কেউ কাজ করাতে চাইনা। সপ্তাহে ২/৩ দিন কাজ করে যে টাকা পাই তা নিয়ে বাজারে আসলে আর ব্যাগ ভরেনা।"
চিতলমারী সদর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা, তায়ফুল শেখ ও অহিদ মোল্লা জানায়, খুলনার কেনা মোকাম খুবই চড়া হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার দাম বেশির কারণে মানুষ কম কিনছে ফলে অনেক সময় সবজি অবিক্রি থাকছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনরকম অসৎপন্থা অবলম্বন করতে না-পারে তার জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। আগামী এক দেড় মাসের মধ্যে শীতকালিন সবজি বাজারে আসলে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।