বগুড়ার চরাঞ্চলে মরিচ চাষের ধুম পড়েছে। বন্যার পরবর্তী চাষীরা যে যার মতো জমি তৈরী করে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত মরিচ বীজ বপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যা পানি দেড়িতে নেমে যাওয়ার কারণে, গত বছরের চেয়ে এবার কম জমিতে মরিচ চাষ হওয়ার আষঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় মরিচ চাষীদের সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার মরিচ দেশে জুড়ে খ্যাতি আছে। তবে বগুড়ার মধ্য মরিচের বেশি আবাদ হয়ে থাকে সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলা এলাকার যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর চরাঞ্চালে। অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষীরা অধিক হারে জমিতে মরিচ চাষ করে থাকেন। গত বছর মরিচের দাম ভাল পাওয়ায় চাষীরা এবার অধিক পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করার আশা করেছিলেন। তবে বন্যা পানি দেড়িতে নেমে যাওয়ায় এখনো অনেক জমি মরিচ চাষের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তাছাড়াও এ মাসে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় চাষীদের মরিচ চাষে বাধাগ্রস্ত করেছে। কার্তিক মাসে মাঝামাঝি সময়ের মধ্য জমিতে মরিচের বীজ বপন করতে পারলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। সারিয়াকান্দি উপজেলা এবার প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। আগামী দুই সপ্তহের মধ্যে আরও কিছু জমিতে মরিচের বীজ বপণ করতে পারেন চাষীরা। হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমান বলেন- গত বছর ৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। এখন পর্যন্ত আমার জমিতে কাঁদার কারণে হাল চাষ দিতে পারিনি। যে কারণে ২বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়াও কাজলা ইউনিয়নের বেনীপুর চরের মরিচ চাষী রোকন উদ্দিন বলেন- এবার আবওহায়া খুব একটা ভাল মনে হচ্ছে না। প্রতিবার ৬বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে থাকি। এবার করছি ৫ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। কিন্তু গজানো গাছ লেদা পোকা ও কাটুও পোকা কেটে দিচ্ছে। অপর দিকে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মূলবাড়ী চরের মরিচ চাষী মোজাম্মেল হক বলেন, এবার আমি ১০ বিঘা জমি মরিচ চাষ করেছি। তার মধ্যে ৪ বিঘা জমিতে হাইব্রীড ৬ বিঘা জমিতে দেশীয় জাতের মরিচের আবাদ রয়েছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিম বলেন, বৈরী আবওহায়ার কারণে এবার মরিচ চাষ কম হবে বলে মনে করছি। তবে আবওহায়া ভাল থাকলে কৃষকেরা বপন কৃত জমি থকে আশা অনুরোপ ফলন পাবে বলে আশা করছি। মরিচ চাষে অধিক যন্তবান হওয়ার জন্য আমরা জমিতে গিয়ে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছি।