কয়েক বছর আগেও নিজের পুরো জমিতেই ধান চাষ করতেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কৃষক রুহুল আমিন। কিন্তু ধান চাষে কোনো বছর লাভ আবার কোনো বছর লোকসান গুনতে হতো। যে কারণে দুই-তিন বছর ধরে ধানের পাশাপাশি পান চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রায় এক বিঘা জমিতে পানের বরজ রয়েছে তার। পান বিক্রি করে এখন নিয়মিত লাভ করতে পারছেন উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের বামনদিঘী গ্রামের এ কৃষক।
রুহুল আমিনের মতো উপজেলার অনেক কৃষক এখন ধানের পাশাপাশি পান চাষে ঝুঁকছেন। অল্প জায়গা ও কম পুঁজিতে পান চাষ করা যায়। এ ছাড়া চারা রোপণের কয়েক মাস পর থেকে সারা বছর পান ওঠানো যায় বলে কৃষকরা নিয়মিত বিক্রি করতে পারেন। আর সারা বছর চাহিদা থাকায় অধিকাংশ সময় ভালো দামে পান বিক্রি করে লাভবান হন কৃষকরা। এসব কারণেই মূলত চারঘাটের কৃষকরা পান চাষে আগ্রহী উঠছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে চারঘাট উপজেলায় পান চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০০ সাল পর্যন্ত চারঘাট ও ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নে অনেক গুলো পানের বরজ ছিল। তবে পরবর্তীতে পান চাষিরা বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং উপজেলায় পান চাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে বিগত বছর গুলোতে পানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা আবারও বাণিজ্যিক ভাবে পান চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পান চাষে সাধারণত সমতল জমি থেকে অপেক্ষাকৃত একটু উঁচু জমির প্রয়োজন হয়। এসব জমিতে বাঁশ, পাটখড়ি, বাঁশের শলা ও ছন দিয়ে বরজ তৈরি করে নিয়ম অনুযায়ী পানের চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের ছয় মাস পর থেকে গাছ থেকে পান ওঠানো যায়। স্থানীয় হাট-বাজারের সঙ্গে মিল রেখে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার পান তুলে বিক্রি করেন চাষিরা। আবার অনেক সময় বরজ থেকেও পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। একবার বরজ স্থাপন করে নিয়মিত পরিচর্যা করলে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত পান তোলা যায়। এসব বরজ থেকে প্রতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন ৪ থেকে ৭ হাজার টাকার পর্যন্ত পান বিক্রি করা যায়।
স্থানীয় বাজারে, এক বিড়া (৮০টি) বড় সাইজের পান ২৬০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি করেন এখানকার চাষিরা। এ ছাড়া মাঝারি সাইজের এক বিড়া ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় এবং ছোট সাইজের পান ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন তারা। এসব পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও যায়।
এদিকে পান চাষে লাভ হওয়ায় চারঘাটের অনেক কৃষক আবাদি জমির পাশাপাশি বাড়ির আশপাশের পতিত উঁচু জমিতেও পানের বরজ স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন।
শলুয়া ইউনিয়নের আরেকজন কৃষক মতিউর রহমান জানান, একসময় ধানসহ সবজি চাষ করতাম। এখন পানের চাষ করি। পান চাষে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। সারা বছরই পান বিক্রি করতে পারি।
চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার জানান, পান চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পান চাষে উদ্যোগী চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত। কৃষকরা লাভবান হলে এ উপজেলায় পান চাষ আরো বাড়বে।