রাজশাহী পুঠিয়ায় ঢলন দিতে না চাওয়ায়,বিক্রেতাদের নিকট হতে কৃষিপণ্য কিনছে চাইছে না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় নিয়ে প্রায় এক ঘন্টার মতো ঢাকাণ্ডরাজশাহী মহাসড়কে খেজুর গুড় রেখে অবরোধ করেন গুড় বিক্রেতারা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার ঝলমলিয়া হাটে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, প্রতি হাটবারে ভোর হতে পৌরসভার ঝলমলিয়া হাটে খেজুর গুড় কেনাবেচা হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার গুড় বিক্রেতারা প্রতি মণে দুই থেকে তিন কেজি ঢলন না দেয়ায় জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুড় ক্রয় করেনি। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ বিক্রেতারা সকাল ৯টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। গুড় ব্যবসায়ীরা না কেনায় অনেক গুড়চাষিরা গুড় বাড়িতে ফেরৎ নিয়ে গেছেন। খেজুরের গুড় বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ইউএনও স্যার আজ সকালে হাটে এসে আমাদের বলেছেন ৪০ কেজিতে মণ হিসেবে বিক্রি করতে। আর ব্যবসায়ীদের দাবি ৪২ কেজিতে তারা মণ নেবেন। যার কারণে আজ সকাল থেকে কোনো ব্যবসায়ী আমাদের গুড় কিনেনি। এতে আমরা মহাসড়কে গুড়ের ডালি রেখে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গুড় ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ৪০ কেজিতে মণ হিসেবে গুড় কিনে প্যাকেট করে তা মোকামে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিমণে এক কেজি কমে যায়। যার কারণে আমরা বিক্রেতাদের নিকট থেকে এক কেজি ঢলন নেই। আজ বিক্রেতারা ঢলন দিতে না চাওয়ায় কোনো ব্যবসায়ী গুড় কিনছেন না। এ বিষয়ে ঝলমলিয়া হাট ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি মুন্সি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঢলন প্রথা নিরসণে সম্প্রতি সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বানেশ্বর বাজারে কৃষক ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সকলের সম্মতিতে ডিজিটাল পাল্লায় ৪০ কেজিতে মণ নির্ধারণ করা হয়। আগের যে ঢলন প্রথা ছিল তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আগে একজন চাষি এক মণ ফসল বিক্রি করতে এসে প্রকার ভেদে ২ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত ঢলন দিতে হতো। এটা কৃষকদের উপর জুলুম করা হতো। আমি আশা করবো সকল ব্যবসায়ীরা ৪০ কেজিতে মণ হিসেবে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা মেনে কেনাবেচা করা দরকার। নাম প্রকাশে অচ্ছিুক একাধিক আড়ৎদারা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাঁচা মাল পরিবহনের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। মাল উঠানামা এবং খুচরা বিক্রি করতে গেলে কাঁচামাল অনেক সময় কমে যায়। ঢলন প্রথা সারা দেশের হাটেগুলোতে প্রচলন হয়ে আসছে। শুধু ঢলন না দেয়ার কথা শুনে। ঢলন প্রথা বাতিল হলে, কোনো পাইকাররা এই হাটে পন্য কিনতে আসবে না। মাঝখান হতে এলাকার পন্য উৎপাদনকারি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হবে। হুট করে উপজেলা প্রশাসন ঢলন প্রথা বাতিল করে কেত্রু বিক্রেতাদের ভেতর ঝামেলার সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ঢলন প্রথা আস্তে আস্তে মানুষের ভেতর সচেতনা গড়ে তুলার পর বাতিল করা উচিত ছিল। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, ঝলমলিয়া হাটে খেজুরের গুড় বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঢলন নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল। একপর্যায়ে গুড় বিক্রেতারা ঢাকাণ্ডরাজশাহী মহাসড়কে প্রতিবাদ শুরু করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন,আজ খেজুর গুড় কেনাবেচা নিয়ে ঝলমলিয়া হাটে একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তার আমরা সমাধান করে ফেলেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার কৃষকরা ঢলন দিয়ে আসছে। একশ্রেনির ব্যবসায়ীরা নিজে লাভবার হওয়ার জন্য ঢলন প্রথা চলু করে রেখেছেন। এদের জুলুম হতে কৃষকদের বাঁচাতে হবে।