রাজশাহীর বাঘায় পায়ে হাঁটা চলাচলের পথ বন্ধ করে নিজ বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অসহায় পরিবারগুলোর শত অনুরোধ উপেক্ষো করে এই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে আরেক ব্যক্তির পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণে বাঁধা দেয়ার অভিযোগও উঠেছে উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের হিমাংসু ভৌমিক ও লক্ষন কুমার ভৌমিকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে চলাচলকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
গ্রামের লোকজনের চলাচলের পথ বন্ধ করে বাড়ির পূর্ব-পশ্চিমে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। যার কারণে পরিবারগুলো পায়ে হাঁটা পথ অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
হরিপুর গ্রামের গ্রামের রতন কুমার ভৌমিক, তপস কুমার, রেজাউল করিম, রবীন্দ্রনাথ সীল বলেন, গ্রামের লোকজনের চলাচলের পথ বন্ধ করে বাড়ির পূর্ব-পশ্চিমে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। যার কারণে পরিবারগুলো পায়ে হাঁটা পথ অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ব্রিটিশ আমল থেকে গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতো। কিন্তু গ্রামবাসীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে চলাচলের রাস্তা পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার বাড়ির গেটের সামনে দিয়ে বের হবার রাস্তাটি অন্যের মালিকাধীন। সেই রাস্তা দিয়ে তিনি যাতায়াত করেন।
গ্রামবাসী রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। যার অনুলিপী কপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হরিপুর গ্রামের বাবু হিমাংসু ভৌমিক ও লক্ষন কুমার ভৌমিকের বিরুদ্ধে গত ২০ অক্টোবর পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ করেন একই গ্রামের রতন কুমার ভৌমিক। শালিস অমান্য করে ঘর নির্মাণে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ করেন রতন কুমার ভৌমিক।
এ বিষয়ে বাবু হিমাংসু ভৌমিক বলেন, বাড়ির দক্ষিনে যে ছোট পুকুর রয়েছে, সেই পাড় ভেঙ্গে আমার জমির সীমানা পুকুরে চলে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ি। তাই নিজের জমিতে সীমানা প্রাচীর তৈরি করেছি। এতে পাশের বাড়ির লোকজন অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তাতে আমার কিছু করার নেই। বাড়ির গেটের সামানের রাস্তার অংশ আমারও রয়েছে।
বাঘা উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে বলেন, এটি হিন্দু ধর্মীয় লোকদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে। সামাজিকভাবে বসে সমাধান করে দিব।
আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এর আগেও বসা হয়েছিল। তবে সকল বিষয়ে বিবেচনা করে প্রয়োজনে আবারো বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।
বাঘা থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) আবু তাহের জানান, ঘর নির্মাণে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে জমির অংশীদারিত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা আছে। তবে সীমানা প্রাচীর সংক্রান্ত অভিযোগ বিষয়ে আমার জানা নেই।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, চলাচলকারি লোকজনের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’