রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই বললেই চলে। কিশোর-কিশোরীদের জন্য ছোট-খাটো দুয়েকটি খেলার মাঠ থাকলেও সেগুলো ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
আগামী প্রজন্মকে উন্নত মানসিকতায় গড়ে তুলতে বিনোদন সুবিধার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, চারঘাটের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বড়াল নদী সংষ্কারের মাধ্যমে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থাকলেও তারা এই এলাকায় বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেননি। বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ¦ শাহরিয়ার আলম এমপি বিভিন্ন সময়ে বড়াল নদী নিয়ে নানা রকম কার্যক্রম গ্রহন করলেও স্থানীয় কিছু অসাধু নদীখেকো ও স্বার্থান্বেষী ব্যাক্তিদের কারণে চারঘাটবাসী তার সুফল ভোগ করতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারঘাটবাসীর বিনোদনের জন্য কোথাও সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। তাই বিনোদনের জন্য এলাকাবাসীদের ছুটতে হয়েছে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে। যাদের এই সুযোগটিও নেই তারা বিকেল হলে বড়াল নদীর স্লুইসগেটের পাশে বসে বিনোদনের সামান্য চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসী মনে করছেন, নদীর স্লুইসগেটটি অপসারণ করে ব্রিজ নির্মান হলে এর দু’পাড়ে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। নদীকে ঘিরে পার্ক স্থাপন করা হলে নদীর সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে। তবে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বড়াল নদীর পাড়ের বসবাসকৃত অনেকেই জানান, এই নদী দিয়ে একসময় বড় বড় নৌকা, ষ্টীমার চলাচল করতো। এমনকি এই নদী বয়ে চাষীরা কৃষিপণ্য বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করতো। বর্তমানে নদীটি দখল ও ভরাটে সংকোচিত হয়ে পড়ছে। তারা মনে করেন এই নদীটি পুনঃ খননের মাধ্যমে গড়ে তোলা যেতে পারে একটি অধুনিক পর্যটন কেন্দ্র।
উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজশাহীর পদ্মা পাড়ে ছুটতে হয়। অথচ আমাদের এলাকাতেই যে নদীটি রয়েছে সে নদীর দুই পাড় সংস্কারের মাধ্যমে এখানেই বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।
পৌর সদরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক নেতারা ইচ্ছে করলেই বড়াল নদীর পাড় ঘেঁষে মিনি পার্ক নির্মাণ করতে পারেন।
স্থানীয় সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, বড়াল নদীর পাড় ঘেঁষে পার্ক স্থাপন এখন সময়ের দাবি। বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে নদীটি বাঁচবে।
চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা সুলতানা বলেন, শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য এই উপজেলায় কোনো পার্ক নেই। নেই শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র। শিশুদের সুস্থ্য মানসিক বিকাশের জন্য অবশ্যই বিনোদন জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ফকরুল ইসলাম বলেন, বড়াল নদীকে কেন্দ্র করে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে আলোচনা করেছি। এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই চারঘাটবাসী তাদের বিনোদনের জায়গা পাবে বলে জানান তিনি।