বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিউটি খাতুন (৩০) নামে এক গৃহকর্মীকে ঢাকার বাসায় আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহকর্মী ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
গৃহকর্মী বিউটি খাতুন ধুনট উপজেলার নিত্তিপোতা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।
জানা গেছে, বিউটি খাতুন প্রায় ১২ বছর ধরে স্বামী প্ররিত্যক্তা। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। চার মাস আগে ধুনট কর্মকর্তা পাড়ার শামীম হোসেনের বাসায় ঝিয়ের কাজ করার জন্য বিউটিকে নেন। কয়েক দিন পর শামীম হোসেন ঢাকা উত্তরা ১৪ ন¤॥^র সেক্টরে মেয়ে জামাই রানার ভাড়া বাসায় কাজের জন্য বিউটিকে পাঠিয়ে দেন। ওই বাসায় কাজে যোগদানের পর থেকে নানা অজুহাতে বিউটিকে নির্যাতন করেন রানা ও মিতু দম্পতি।
এক পর্যায়ে বিউটিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকায় নিজের বাসায় নিয়ে আসেন রানা। সেখানে সোমবার সকালে রানা তাকে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন। পরে ওই বাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে বিউটি সোমবার রাতে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিউটি খাতুন বলেন, কারণে অকারণে আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করত। নির্যাতন সইতে না পেরে আমি বাড়িতে আসতে চাইলে রানা স্যার আমাকে বাসায় আটক রাখেন। বাড়িতে আসতে চাওয়ার কারণেও আমাকে নির্যাতন করত। আমি নির্যাতনের বিচার চাই।
এ বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, কাজের মেয়েটি মানুষিক ভারসাম্যহীন এটা আগে জানতাম না। বাসায় কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যেই মেয়ে ও জামাইকে মারধর করতে উদ্যত হত। সোমবার সকালের দিকে জামাই রানাকে বটি দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করে। এ সময় জামাই ক্ষুব্ধ হয়ে কাজের মেয়ে বিউটিকে একটু মারধর করেছেন। তবে গৃহকর্তা রানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিউটির খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে।