প্রসস্তকরণের অজুহাতে প্রায় এক মাস ধরে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দুই পাশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ, শহরের মধ্যভাগ দিয়ে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলাচলের অন্যতম প্রধান মহাসড়ক এটি। এই মহাসড়কটির প্রসস্তকরণ কাজ চলছে প্রায় ৭ মাস ধরে। কিন্তু ঘোষণা ছাড়াই সংস্কারের অজুহাতে গত প্রায় ১ মাস আগে হঠাৎ সম্পূর্ণ রাস্তাটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তিতে। আর ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনায় এমন পরিস্থিতিতে বিভাগীয় শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম ভিআইপি সড়ক হয়ে বাস চলাচল করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ওই রাস্তায় চলাচলকারীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে। মহানগরীরর মধ্য অংশে থাকা দুই লেনের এ মহাসড়কটিতে চার লেনে রুপান্তরের পুনঃনির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)।
পূর্বের এমন অনেক কাজের উদহরণ দেখিয়ে স্থানীয়রা বলেন, কার্পেটিংয়ের সময় সাধারণত রাস্তার এক পাশ বন্ধ করে আরেক পাশ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এতে রাস্তার কিছুটা সাময়িক ক্ষতি হলেও সেটি ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে ঠিক করতে হয়। আর এমন কাজ করেই ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট দফতরের সুদৃষ্টিতে আসেন। কিন্তু চিরোজানা এ প্রক্রিয়া উপেক্ষা করেই মহাসড়কটি বন্ধ করে চালানো হচ্ছে প্রসস্তকরণ কাজ। আর তাতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তিতে।
অভিযোগ উঠেছে, চলমান সংস্কারকাজটির ঠিকাদার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তাক হোসেন ও আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা বজলুর রশিদ। যে কারণে তাদের প্রভাবেই অনৈতিকভাবে পুরো রাস্তাটিই বন্ধ করে চালানো হচ্ছে প্রসস্তকরণকাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর বহরমপুর বাইপাস মোড় রেলক্রসিং সংলগ্ন বাঁশ, ইট ও বালুর ভরাট দিয়ে সড়কটির প্রবেশ বা বাহিরের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। আর চারকুঠার মোড় এলাকায় প্রসস্তকরণকাজের মালামাল সড়কের মাঝখানে ফেলা হয়েছে। ফলে দুই পাশ থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। আর বন্ধ থাকা প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের একপাশের লেনে কোন কাজই হচ্ছে না। তবে অন্য লেনের শুধু কোর্ট স্টেশন এলাকায় কার্পেটিং শুরু হয়েছে। কার্পেটিং শুরু হওয়া লেনের এক স্থানে শ্রমিকদের সড়কটি ঝাড়– দিতে দেখা গেছে। এছাড়া এক স্থানে সড়ক বিভাজনে বসানো কংক্রিটের বেড়া পরিস্কারের কাজ করা হচ্ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৭ মাস আগে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের নগরীর বহরমপুর-কাশিয়াডাঙ্গা প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তাটি প্রসস্তকরণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু গত প্রায় ১ মাস ধরে চার লেনই বন্ধ করে সড়ক সংস্কার ও প্রসস্তকরণ কাজ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সকালে ডিঙ্গাডোবা এলাকার একাধিক দোকানি ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১ মাসের বেশি সময় ধরে সড়ক বন্ধ করে রাখা হলেও ২০ দিনের মতো কোন কাজই হয়নি। কেবল এক পাশে কার্পেটিং শুরু হয়েছে, তবুও কোর্ট এলাকায়।
এদিকে রাস্তাটি বন্ধ থাকার কারণে নগরীর হড়গ্রাম, ডিঙ্গাডোবাসহ বেশকিছু এলাকার বাসিন্দাদের বিকল্পপথে চলাচল করতে হচ্ছে। আর রাস্তা বন্ধের কারণে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাসগুলোকে শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম লক্ষ্মীপুর-কাশিয়াডাঙ্গা সড়ক হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যে রাস্তায় আদালত, ডিআইজি অফিস, পুলিশ লাইন্স, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) অফিস, হাসপাতালসহ বিভাগীয় শহরের অধিকাংশ সরকারি সকল দফতরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এ কারণে এ রাস্তায় বহু আগে যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত এক মাস ধরে বিভাগীয় শহরের এই ভিআইপি রাস্তাটিতে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়, কোর্ট, ঢালুর মোড়-হড়গ্রাম বাজার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ওই রাস্তায় চলাচলকারীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ রাস্তা দিয়ে চলাচলরত -ঢাকা রুটের বাস চালক ফারুক বলেন, ‘এভাবে গোটা সড়ক বন্ধ করে দিয়ে কখনো মহাসড়কের কাজ করতে দেখেনি। সাধারণত কার্পেটিংয়ের সময় ওই রাস্তাটা বন্ধ রেখে অপরটি সাইড খোলা থাকে। ফলে অন্যপাশ দিয়ে নির্বিঘেœ যান চলাচল করে। কিন্তু এই প্রথম দেখছি দুই সাইড বন্ধ রেখেছে। ফলে পাঁচ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের হয়রানি হতে হচ্ছে। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় এ সড়কের যাত্রীরা নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে ওঠা নামা করতে পারছেন না। এছাড়াও বাড়তি রাস্তা চলাচলে আমাদের তেল খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত সবুজ নামে ডিঙ্গাডোবা এলাকার ব্যক্তি জানান, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ চলাচল করেন। কারণ এটি মহাসড়ক। এর বাইরে নগরীরও হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। বর্তমানে সড়কটি বন্ধ থাকায় এ রাস্তায় চলাচলরতদের বাড়তি খরচ হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার মোস্তাক হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টাকালে ঠিকাদারের লোক পরিচয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কাজের সময় গাড়ি চলাচল করলে আবার নতুন করে সংস্কার করতে হবে। তাই সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
পরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ভারপ্রাপ্ত প্রধান খায়রুল বাসার বলেন, ‘ঠিকাদারের সামান্য ক্ষতির জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে কাজ করার কোনো নিয়ম নাই। কিন্তু তারা কেন এটি করলেন সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তার পরেও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।