মোল্লাহাটে বাড়িতে তৈরী বোমা বিষ্ফোরণে এক যুবক গুরুতর যখম হওয়ার ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা চালাচ্ছে মূল হোতারা। এছাড়া সত্য না বলে যেন অবশ্যই শেখানো কথা বলা হয় সে জন্য ভিকটিম (যখমী যুবক) ও প্রত্যক্ষদর্শীকেসহ তাদের পরিবারের লোকদের সিমাহীন হুমকী-ধামকী দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সুত্র জানায়- গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মোল্লাহাটের কোদালিয়া গ্রামের ক্বারী মোঃ জাকির মোল্লার বাড়িতে বোমা তৈরী হয়। ওই বোমার একটির পরিক্ষামূলক বিষ্ফোরণ ঘটনায় ক্বারী জাকির মোল্লার শিশু ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র ওমায়ের (১০)। নিকটস্থ সানিয়ারের দোকানের সামনে রাস্তার পাশে বিষ্ফোরিত ওই বোমার আঘাতে একই এলাকার হাফেজ শেখের ছেলে পথচারী সুরুজ (১৮) নামের এক যুবক গুরুতর যখম হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে যখমী যুবককে চিকিৎসার জন্য বাড়িতে ডাক্তার ডেকে আনে ক্বারী জাকির মোল্লার পরিবার ও ভিকটিম পরিবার। ডাক্তার এসে যুবকের পেটে (ক্ষত স্থান) ৯টি সেলাইসহ ব্যান্ডেজ করেন।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের জানায় এলাকাবাসী। সাংবাদিকরা খোজ-খবর নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করে। একই সাথে মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করাসহ তার বক্তব্য চাইলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান সাংবাদিকদের। পরবর্তীতে মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জ কাজি গোলাম কবীর জানান-ওই দিনই (২৬ সেপ্টেম্বর) মোল্লাহাট থানার এস,আই মোস্তফাকে পাঠানো হয়েছিলো এবং ওরা থানায় আসছিলো। শুনেছি শিশু ওমায়ের (১০) পুরা একটি ম্যাচের কাঠি/দিয়াশলাই দিয়ে বাজি ফুটিয়েছে। তখন দৌড়দিয়ে ওই যুবক ভ্যানের স্পোকে যখম হইছে। আপনাদের এবং আমার একমত হওয়া দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্বারী মোঃ জাকির মোল্লা তার ০১৪০৬৯০৩৮৬২ নং মুঠোফোন থেকে ০১৭১১৩৯৭৮৪২ নং মুটোফোনে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার প্রস্তাব দেন এবং জানান দারোগার মাধ্যমে থানা ম্যানেজ হইছে। তারা আর কিছু করবে না। আপনারা কোদালিয়া বাজারের ডাক্তার হুমায়ূন এর সাথে দয়া করে দেখা করেন, সে আমার ছোট ভাই (শ্যালক), সে আপনাদের খুশি করবে। দয়া করে আপনারা আমার ক্ষতি করবেন না।
অপরদিকে ভিকটিম পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ তাদের পরিবারের সকলকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করাসহ বোমার ঘটনা উল্টা তাদের ওপর চাপানো হবে বলেও হুমকী-ধামকী দিচ্ছে বোমার মূল হোতারা।
ভিকটিম সুরুজ আলী (১৮) ও তার নানী খায়রোন (৬৫) জানান- আসল ঘটনা না বলে মিথ্যা কথা বলতে বলা হচ্ছে সুরুজকে। বোমার বদলে ভ্যানে কেটেছে এমন মিথ্যা বলতে হবে, না হলে আর কোন খরজ তো দিবেই না, উল্টা বিপদে পড়তে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ফারদীনকেও একই ধরণের হুমকী ও ভয়-ভীতি দেয়া হচ্ছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।
ক্বারী জাকির মোল্লার বড় ভাইয়ের ছেলে সেনা সদস্য রুম্মান মোল্লার নেতৃত্বে কয়েক ব্যক্তি ওই হুমকী-ধামকী দিচ্ছে বলেও জানান তারা।
মোল্লাহাট থানার এস,আই মোস্তফা জানান-তিনি তদন্ত করেছেন এবং বোমার ঘটনা সঠিক নয় বলে পেয়েছেন, মঅজের কাঠি দিয়ে জাকির হুজুরের ছেলে ওমায়ের বাজি ফুটিয়েছে এবং তা থেকে বারুদের স্পর্শ সুরুজের শরীরে লাগছে। যদি বোমার আঘাত হতো তাহলে কোদালিয়া চিকিৎসা হতো না এবং থানা ম্যানেজের বিষয় বাজে কথা বলেও জানান তিনি।