বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন। বুক ভরা আশা আর চোখে বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে আমন ধান বুনলেও তা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গুলিয়া দূর্নার খালে বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের নাগর নদে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি হওয়ায় গুলিয়া, পারশন, পারঘাটা, সারাদিঘর এলাকায় মাঠের আমন ধান ডুবে যাচ্ছে। দিন দিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও গুলিয়া দূর্নার খালে বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের দিন কাটছে হতাশায়। শুধু তাই নয়, কৃষকরাও বুক ভরা আশা, চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে শক্ত হাতে নেমেছিলেন মাঠে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে আমন ধানের চারা বুনেছিলেন। ছিল আশা, ছিল স্বপ্ন কিন্তু টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সব তছনছ হতে চলেছে।
এ দিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। টানা বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া ও দিনমজুররা পড়েছে বড় বিপাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নাগর নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তা বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ধান ডুবে গেছে জানিয়ে পারঘাটা গ্রামের কৃষক হযরত আলী, মাফু মিয়া বলেন, শুধু আমরা নই, এই এলাকার অনেক কৃষকের স্বপ্ন আর আশা ডুবিয়ে দিয়েছে বন্যা। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জমির রোপা আমন ধান নিয়ে কৃষকরা এখন দিশাহারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আদনান বাবু বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবার ১৯ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮০ হেক্টর জমির ধান প্লাবিত হয়েছে। তবে নাগর নদে আর পানি বৃদ্ধি না পেলে রোপা আমন ধানের ক্ষতি হবে না।