বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেলকুচি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন ফৌজিয়া বিথী। পেশা ও সংসারের কাজের ফাঁকে তিনি এগিয়ে এসেছেন করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে কিছু করার জন্য। এজন্য খাতা, কলম, পেন্সিল নিয়ে ছুটছেন শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি। স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শিক্ষা সামগ্রী। খাতা-কলম পেয়ে খুঁশি শিক্ষার্থীরাও।
সুরাইয়া ও রজনী নামের দু’ শিক্ষার্থী জানায়, বিথী আপা খাতা কলম দেওয়াতে আমাদের লেখাপড়া করতে সুবিধা হচ্ছে। করোনাকালে বাবার কাজ না থাকায় আয়-রোজগার নেই। তাই আমাদের খাতা কলম কিনে দেয়নি। আপা আগেও দিয়েছে, আবারো দিলো। এতে আমরা খুব খুশি।
অভিভাবক আজগর আলী জানান, করোনা কালে কাজ না থাকায় আপা আমাদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন। আমার সন্তানের লেখাপড়ার খোঁজখবর নিয়েছেন। ফোন করলে সন্তানদের পড়া বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষিকা ফৌজিয়া বিথী জানান, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে করোনাকালে পড়াশুনা ভুলে না যায় এজন্য শিক্ষার্থীদের খাতা, কলম দিয়ে লেখা পড়ায় মনোযোগী হতে চেষ্টা করছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াশুনার খোঁজখবর নিচ্ছি। ইতোপূর্বে তিনি করোনা ভাইরাসের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে নিজের হাতে তৈরী করা দশ হাজার মাস্ক সাধারণ জনগনের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন। এলাকার অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তাই তিনি মাবদরদী বিথী আপা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন।