সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে লেখা আছে, ‘পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ’সহ নানা স্লোগান। রয়েছে জাতীয় পতাকাসহ নানা চিত্রকর্ম। ফটক দিয়ে ঢোকার সময় হাতের বাম দিকে একটি বাগান। লাগানো হয়েছে নানা ফুলের গাছ। গাছগুলোতে ফুলও এসেছে। রয়েছে একটি ছাউনি। যেটি ‘সেবা ছাউনি’ নামে পরিচিত, জরুরি সেবা দেওয়া হয় সেখানে। মূল ভবনে ঢুকতে ঝোলানো ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘জিডি করতে টাকা নয়; মিষ্টি হেসে ধন্যবাদ দিন’।
এসব দৃশ্য চোখে পড়বে রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানায় ঢুকলে। অথচ একসময় অনেকের বিরক্তির কারণ ছিল এই থানা প্রাঙ্গণ। সারাক্ষণ জটলা লেগে থাকার পাশাপাশি পরিবেশ ছিল নোংরা। দুর্গন্ধ থাকতো নিয়মিত। ওই এলাকা পাড়ি দিতে দুর্ভোগে পড়তে হতো পথচারীদের। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন উধাও। এখন থানার পাশ দিয়ে গেলেই মন জুড়িয়ে যায়।
প্রবাদে ছিল, ‘বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা, আর পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ!’ কিন্তু রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানার অনন্য পুলিশিং বদলে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা। আর এই বদলে যাওয়া থানার কারিগর চারঘাট মডেল থানার বর্তমান ওসি সমিত কুমার কুন্ডু।
করোনা মহামারী কালেও জনগনের একজন সেবক হিসাবে তিনি চারঘাট থানাবাসীর পাশে থেকেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের বেতনের টাকায় খাদ্য সামগ্রী কিনে রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গ্রাম্য পুলিশ, সাংবাদিক ও জনসেবায় নিয়জিতদের নিজ উদ্যোগে মাস্ক,পিপিই ও স্বাস্থ্য সামগ্রী প্রদান করেছেন।
তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রন ও সব ধরনের অপরাধ রোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। চারঘাট মডেল থানাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি থানাকে দালাল ও তদবির মুক্ত করার বিষয়ে তিনি সাহসী কঠোর ভূমিকা পালন করে থানাকে দালাল মুক্ত করেছেন। যদিও তিনি থানা দালাল মুক্ত ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় একটি মহল ওসি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাতে তার পথ রুদ্ধ হয়নি,বরং আরো জোরালো গতিতে চলছে তার কার্যক্রম।
বদলে যাওয়া চারঘাট মডেল থানা ও বর্তমান ওসি সমিত কুমার কুন্ডু সম্পর্কে চারঘাট উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদশা জানান, চারঘাট মডেল থানার অনন্য পুলিশিং কার্যক্রম বদলে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা। করোনা কালে ওসি সমিত কুমার কুন্ডুর অবদানের কথা চারঘাট থানাবাসী আজীবন মনে রাখবে। পুলিশিং সেবা সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান ওসি যেসকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য।
চারঘাটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ওসি সমিত কুমার কুন্ডু বলেন, চারঘাটবাসীর গর্ব করার মত অনেক কিছু আছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, খয়ের শিল্প অন্যতম। কিন্তু কিছু অসাধু মাদক ব্যাবসায়ীদের কারণে চারঘাটের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আর তিনি এজন্য সব সময়ই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে চান।
তিনি বলেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতার কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পূর্বের ন্যায় এখন আর প্রকাশ্যে নারীদের ইভটেজিং, চুরি, চালকদের আহত করে মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের মত ঘটনাগুলো আর নেই। গর্ব করার মত চারঘাট গড়তে তিনি সাংবাদিক এবং সচেতন চারঘাট বাসীর কাছে থেকে সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিত দিক নির্দেশনা আশা করেন।