বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অপহরণের পর স্কুলছাত্রীকে এক মাস ধরে জিম্মি রেখে ধর্ষণ মামলার বাদী নরেন সরকারকে (৪৫) কুপিয়ে আহত করেছে আসামি ও তার লোকজন। আহত নরেন সরকার উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বানিয়াজান চল্লিশপাড়ার প্রমথ সরকারের ছেলে। তিনি ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধী রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গোসাইবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন শাকিল আকন্দ (১৯)। কিন্তু বখাটের প্রেমে সাড়া না দিলে স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে শাকিল। ফলে স্কুলছাত্রীর বাবা এ বিষয়টি নিয়ে শাকিল আকন্দের বাবার নিকট বিচারপ্রার্থী হোন। কিন্তু বিচার না দিয়ে উল্টো স্কুলছাত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বখাটে শাকিল। একপর্যায়ে ২৮ মে বিকেলে শাকিল ও তার সহযোগী সুজন জোরপূর্বক ওই স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে এক মাস ধরে আটক রেখে ধর্ষণ করেন শাকিল।
এঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গত ১জুন শাকিল আকন্দসহ ৯জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়েল করেন। থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫ জুন নিলফামারী জেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া সোমবার সন্ধ্যায় গোসাইবাড়ী বাজার এলাক থেকে মামলা প্রধান আসামি শাকিলকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার সকালে কারাগারে পাঠিয়েছেন পুলিশ।
এতে ধর্ষণ মামলার অন্যান্য আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দকে বাড়ির পাশে রাস্তায় মামলার বাদী নরেন সরকারকে কুপিয়ে আহত করেন তারা।
এ বিষয়ে নরেন সরকার বলেন, আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকির একপর্যায়ে আমাকে কুপিয়ে আহত করেছে। তাদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমি আমার মেয়েকে অন্যত্র গোপন করে রেখেছি। এ ঘটনায় আরো একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীক কুমার বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আহত বাদীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।