বগুড়ার কাহালু উপজেলায় অবস্থিত বেতার কেন্দ্রটি দেখে অনেকেই মনে করেন এটি বন্ধ কিংবা অচল। আজ থেকে ৩২ বছর আগে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হলেও আজও শুরু হয়নি নিজেস্ব কোন সম্প্রচার। অনুষ্ঠান সম্প্রচার বঞ্চিত থাকায় এতে পিছিয়ে পড়ছে এ অঞ্চলের শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ও সংবাদকর্মীরা।
বগুড়া জেলা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে কাহালুর দরগাহাটে ২৫ একর জমির উপর প্রায় ৮ কোটি ৫১ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বেতার কেন্দ্রটি ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। ঢাকার বাইরে সারাদেশে মাত্র ৫টি ১০০ কিলোওয়াট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বেতার কেন্দ্র রয়েছে যার মধ্যে কাহালু বেতার কেন্দ্র একটি।
পাশ্ববর্তী রাজশাহী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও থেকে মাত্র ১০ কিলোওয়াট দিয়েই পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র হিসেবে সকল বিভাগের কার্যক্রম চালু আছে। অথচ নিজেস্ব এফএম, স্টুডিও সহ নানা সমস্যায় জরজরিত থাকার কারণে আজও নিজেস্ব সম্প্রচারে আসতে পারেনি মাইক্রোওয়েভ লিংকে ১০০ কিলোওয়াট উচ্চশক্তির ট্রান্সটারের বাংলাদেশ বেতারের কাহালু কেন্দ্রটি। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে প্রচার সক্ষমতার দিক থেকে সবচেয়ে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন হয়েও প্রতিষ্ঠার তিন যুগে এসেও এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ বেতারকেন্দ্র।
পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্রের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাংষ্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রির কাছে স্মারকলিপি পাঠালেও এখনো তার কোন সুফল পাওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে বাংলাদেশ বেতারের কাহালু কেন্দ্রটি অতি শিঘ্রই পূর্ণাঙ্গরূপে সম্প্রচারে আনার দাবি জানিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।
কাহালুর উত্তরসূরী গ্রুপের এডমিন ও তরুণ যুবক আতিক মাহমুদ বলেন, আমাদের অনেকেরই ধারনা কাহালু বেতার কেন্দ্র বন্ধ। যদি এখানে নিজেস্ব প্রচার কেন্দ্র সহ এফ এম প্রতিষ্ঠা করা হয় তাহলে এটি বগুড়ার বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখবে।
বেতার কেন্দ্রটির প্রকৌশলী মোঃ শহিদুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি বাংলাদেশ বেতারের উচ্চ শক্তি প্রেরণ কেন্দ্র-৫। বর্তমানে এই কেন্দ্রটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রের অনুষ্ঠান এ এম এর মাধ্যমে রীলে (সম্প্রচার) করা হয়। তবে নিজেস্ব কোনো প্রচার কেন্দ্র ও এফ এম নেই। বগুড়া শহরে ৫ একর জায়াগা হলে এই বেতার কেন্দ্রের স্টুডিও নির্মাণসহ সকল বিভাগ খোলা সম্ভব।
বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিরা বেতার কেন্দ্রে উন্নতমানের স্টুডিও, শিল্পী ও কলাকুশলীদের যাতায়াতের জন্য গাড়ি সহ নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোনটিই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রচার কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে স্থানীয় বহু শিল্পী-সাংবাদিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে এ বেতার কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারবে।