বগুড়ার নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার হাতে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ। এ ঘটনায় থানায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলীকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরে নন্দীগ্রাাম উপজেলার কুন্দারহাট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কুন্দারহাট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি চা’র দোকানে বসেছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউলর আশরাফ জিন্নাহ। এ সময় একই উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী সেখানে হাজির হয়। তখন পূর্বদলীয় বিরোধ নিয়ে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর তাদের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ আশরাফ মামুন বাদী হয়ে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলীকে আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৪ জনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করে।
জানতে চাইলে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করতে যাওয়া নিয়ে কুটক্তি করায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে কুন্দারহাট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। উপজেলা চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কুটক্তি করেছেন এমন অভিযোগ এনে তার অপসারন দাবী করা হয় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ বলেন, বঙ্গবুন্ধুকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন কুন্দারহাট বাজারে অনেক মানুষের সামনে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
এদিকে বিকেল সাড়ে ৩ টায় উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র ওপর হামলার প্রতিবোদে যুবলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
অপরদিকে গত ২৬ আগস্ট নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর ও সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলীকে খুন, গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মুকুল হোসেন, আ’লী নেতা কালিপদ রায়, আনিছুর রহমান আলো, মোখলেছুর রহমান মিন্টু. মোরশেদুল বারী, মিজানুর রহমান মাসুম, বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম হোসেন, নিকুঞ্জ কুমার, মোতাহার হোসেন। এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবির বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।