গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জমি দখলের টাকা ভাগাভাগির বিরোধে সোমবার রাতে ইদ্রিস আলী (৩০) নামে এক শ্রমিকলীগ নেতা খুন হয়েছে। নিহত ইদ্রিস টোক ইউনিয়নের সালুয়ারটেকি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের পুত্র। সে স্থানীয় টোক ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। এসময় পাশর্^বর্তী ভূঁইয়া বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে। কয়েকদিন যাবত এলাকার জাহিদ ও ইদ্রিসের মধ্যে টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল বলে জানা যায়।
নিহত ইদ্রিসের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, গত সোমবার রাতের খাবার খেয়ে ইদ্রিস বাড়ির পাশে টোক বাইপাস মোড়ে চা পানের জন্য যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে ফিরে না এলে তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতজনদের ফোন দিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে টোক বাইপাসের পশ্চিমপাশে রবিন ভূঁইয়ার বাড়ি সংলগ্ন পুকুরের পাড়ে ইদ্রিসের জামা কাপড় পড়ে থাকতে দেখে এবং পাশেই ইদ্রিসের মৃতদেহ দেখতে পায়। এসময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে থানায় খবর দেয়।
ইদ্রিসের পারিবারিক সূত্র জানান, সম্প্রতি মোতালিব ভূঁইয়ার মেয়ে ছিদ্দিকা ভূঁইয়ার পরিবার টাকার বিনিময়ে নিহত ইদ্রিস ও জাহিদের সহযোগিতায় একটি বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক ভাবে দখলে নেয়। এ নিয়ে জাহিদ ও নিহত ইদ্রিসের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং ইদ্রিসকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল জাহিদ। স্থানীয় রবিন ভূঁইয়ার ভাগিনা জাহিদের সাথে ইদ্রিসের লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। জাহিদ গত কয়েকদিন আগে টোক বাইপাসে ইদ্রিসের বুকে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়েছিল। গত সোমবার আবারও জাহিদ তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল বলে ইদ্রিস তার স্ত্রী সুমাইয়াকে জানিয়েছিল। তাই জাহিদ ও তার সঙ্গীরাই ইদ্রিসকে খুন করেছে বলে পরিবারের দাবি করেন এবং তারা খুনিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।
ঘটনার খবরে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জহিরুল ইসলাম ও কাপাসিয়া থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান এবং পাশ^বর্তী রবিন ভূঁইয়ার ভাগিনা জাহিদের ঘরে তল্লাশি চালান। এ সময় জাহিদের ঘর থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশী রাইফেল ও একটি পিস্তল সহ ৮ টি ম্যাগজিন, ৬২ রাউন্ড গুলি ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত ইদ্রিসের গলায় ও মাথায় কুপের চিহ্ন ও বুকে জখম রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে খুনিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।