বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় জোয়ারের পানিতে পৌরসভাসহ নিম্নাঞ্চলপ্লাবিত, লক্ষাধীকলোক পানিবন্ধি। তলিয় গেছে ফসলী জমি, মাছের ঘের, পানের বরজ, বিনষ্ট হয়েছে পেঁপে, কলাবাগানসহ শাক সবজি ও রোপা আমনক্ষেত। উপজেলা কৃষি বিভাগ এক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছেন মৎস্য চাষীরা। উজিরপুর পৌরসভা সন্ধ্যা নদীর কোল ঘেঁষে থাকায় এবং নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি ঢুকে ঘরে মেঝে পনিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন পানিবন্ধি মানুষেরা। এই অঞ্চলে নেই কোন বেড়িবাঁধ ও স্লুইজগেট। কাউন্সিলর রিপন মোল্লা, কাইয়ুম হোসেন ও খাইরুল ইসলাম জানান, নদীর পাশ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে অসহায় মানুষগুলো পানিবন্ধি থেকে মুক্তি পাবে। কিছু কিছু স্থানে স্লুইজগেট একান্ত প্রয়োজন।
পৌর মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী জানান, পৌরসভা প্রায়ই নদী বেষ্টিত ও নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্রায় ১০ হাজার লোক পানিবন্ধি। সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর মজিদ সিকদার বাচ্চু জানান, পৌরসভাসহ উপজেলার বড়াকোঠা, ওটরা, হারতা, সাতলা, জল্লা, শিকারপুর সন্ধ্যা নদীর তীরে এবং অত্যন্ত নিম্নাঞ্চল। সামান্য জোয়ারের পানিতে এসব নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এসব অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক লোক পানিবন্ধি। পৌর এলাকায় বেড়িবাঁধের জন্য বার বার ওয়াপদায় যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার জানান, বর্তমানে জোয়ারের পানিতে এক হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল জানান, মাছের ঘের ও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস জানান, পানি বন্ধি কিছু কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি,বড় ধরণের ক্ষতি না হলেও মাছের ঘের, পানের বরজ ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।