মোল্লাহাটে একরাতে একই এলাকায় পৃথক দুই মহিলার একজন ধর্ষণের শিকার ও অপরজন ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের আড়-য়াডিহি এলাকায় বুধবার রাতে ন্যাক্কার জনক পৃথক ওই দুই’টি ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার বিধবাকে দশ হাজার টাকা দিয়ে রফা-দফা ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী’কে ধমকিয়ে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। জঘণ্য ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃস্টি হয়েছে। জোর পূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার শিকার মহিলা ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী এবং ধর্ষণের শিকার মহিলা একই এলাকার বিধবা।
স্থানীয় কয়েক বৃদ্ধ ও যুবকসহ বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া ওই খবরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেলে শ্লীলতা-সম্ভ্রমহানির শিকার প্রবাসীর স্ত্রী (৩৫) জানান-তিনি তার পোষা মুরগীর খোজে বৃহস্পতিবার সন্ধায় পাশের বাড়ি যান। তখন ওই বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে আলমগীর ফকিরের ছেলে শাহিন ফকির (২৫) তাকে টেনে ঘরের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। তিনি লোক-লজ্জায় উচ্চ স্বরে চিৎকার না করলেও ইজ্জত রক্ষায় ধস্তা-ধস্তি করেন। এভাবে প্রায় আধা ঘন্টা সময় পার হয়। একপর্যায়ে তার শাশুড়িসহ কয়েকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। ওই সময় লম্পট শাহিনকে তার তিন চাচি মিলে সরিয়ে দেয়। একই সময়ে শাহিনের পক্ষের কয়েক ব্যক্তি উল্টো তাকে (মহিলা) ধমকিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনার বিচার দাবী করেন ভিকটিম। শাহিনের চাচী ঝর্না, খুশি ও ববিতা বলেন-ওই মহিলার চরিত্র ভালোনা, আমাদের ওই ঘরে শাহিন একা থেকে লেখা-পড়া করে, ওই মহিলা নিজে এসে শাহিনের ঘরে ঢুকেছে, পরে তার শাশুড়িসহ কয়েকজনে তাকে নিয়ে গেছে। শাহিনের চাচী ববিতা আরো বলেন-ওই ঘটনায় তিনি নিজে তার পায়ের জুতা খুলে শাহিনকে পিটিয়েছেন। এরপর থেকে শাহিন আর বাড়ি নাই।
শাহিনের পিতা আলমগীর ফকির ০১৭২৪৪১৪৩০৮ নং মোবাইলে জানান-ওই মহিলা তার ছেলের ঘরে এসে উঠেছে এবং তার ছেলে অত্যন্ত ভালো। এর পূর্বে মেয়েলী এক ঘটনায় তার ছেলে জনতার হাতে মারপিটের শিকার হয়েছিলো কি-না ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেশ পূর্বে ভান্ডারখোলা এলাকায় মারপিটের শিকার হয়েছিলো, তবে, তার ছেলের দোষ ছিলোনা।
অপরদিকে শাহিনের পাশের বাড়ির রজব আলী শেখের ছেলে রেজাউল শেখ (৩৫) একই এলাকার এক বিধবা (৩৫)’কে রাস্তা থেকে ধরে বাগানে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় স্থানীয়রা হাতে-নাতে ধরলে অনেকে জড় হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য মারুফসহ কয়েক ব্যক্তি বিষয়টি রফা-দফা করে।
রেজাউলের মা লিপিয়া বেগম বলেন-রাতের ঘটনা রাতেই ফয়সালা হইছে, দশ হাজার টাকা দিছি, দশ হাজার টাকায় মেম্বার মারুফ মিটাইছে।
ইউপি সদস্য মারুফ বলেন-রাতেই মিটে গেছে, এ নিয়ে কিছু লিখেন না। এ ছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাও না লেখার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
তবে, ভিকটিম’কে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।
থানা কর্মকর্তা ইনচার্জ কাজি গোলাম কবীর বলেন-থানায় কোন অভিযোগ কেউ করে নাই, তবে, এ জঘণ্য ঘটনার বিচার হওয়া উচিৎ। বিষয়টি তিনি খোজ-খবর নিবেন বলেও জানান।