গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা সদর সহ প্রায় সর্বত্রই পানের দোকান, মুদির দোকানসহ বাজার এলাকা ও সড়কের মোড়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রোলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ। ফলে যেখানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বেচাকেনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ দোকানি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এ ব্যবসা করছে। এলপি সিলিন্ডার এখন পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে। এসব দোকানির অনেকেরই ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনারও অনুমোদন নেই। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যে কোন সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রি রোধে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিআকর্ষণ এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, এমনটিই প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।
এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ওয়েব সাইটে গত ২১ জুলাই সর্বশেষ হাল নাগাদ বিভিন্ন পণ্যের স্থানীয় বিক্রয় মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সাড়ে ১২ কেজি প্রতিটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬ শত টাকা দেখানো হয়েছে। অথচ খুচরা বিক্রেতারা প্রতিটি সিলিন্ডার ক্রেতা বুঝে ৮’শ থেকে সাড়ে ৮’শ বা ৯’শত টাকা আদায় করছে। এ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সাথে সাধারণ ক্রেতাদের বচসার ঘটনাও ঘটছে।
জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ করলে তিন বছরের কারাদন্ড, বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডেদন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে যত্রতত্র বিক্রি করা হচ্ছে। দেশে সাধারণত উৎপাদনকারীর কারখানা থেকে ডিলাররা সিলিন্ডার ক্রয় করে। এরপর ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার পৌঁছায়। এ ক্ষেত্রে উৎপাদনকারীরা ডিলারদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সনদের বিষয়টি যাচাই করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। যদিও বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪’র অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা-২০০৪/ ৬৯ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ করা যাবে। তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, এসব সিলিন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। এলপিজি স্থাপনা প্রাঙ্গণে ধূমপান, দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছে আলো বা তাপের উৎস থাকা চলবে না। কিন্তু এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চায়ের দোকানে চুলার পাশে মজুদ রেখে কিংবা সিগারেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান, খুচরা বাজারের দোকান, রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে যত্রতত্র ফেলে রেখে বিক্রি করছে পেট্রোল ও এলপিজি সিলিন্ডার। এসব দোকানদার বেশিরভাগই বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেননি। তা ছাড়া তদারকির অভাবে ঝুঁকি জেনেও দোকানিরা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানে। আবার বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সনদ নেয়ার তোয়াক্কা করছেন না তারা। বেশিরভাগ দোকানি ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স নিলেও ১০টির বেশি সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব দোকানে ২০টি থেকে শতাধিক সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রি করলেও সনদ নেই। এক দোকানে নানা ব্র্যান্ডের এলপি গ্যাসবোঝাই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও চা ও পানের দোকান ছাড়াও হার্ডওয়্যার, সিমেন্ট, মনোহারি ও মুদি সামগ্রী বিক্রির দোকানেও এলপি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।