বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাটে মা’ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নির্ধারিত তারিখের আগে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ অতঃপর অসুস্থ হওয়ায় এবং চিকিৎসক ছাড়া সিজারকালে ওটিতেই সোনিয়া (২৬) নামে এক গর্ভবতীর করুন মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসাথে মৃত্যু/হত্যার দায় এড়াতে এ্যাম্বুলেন্স ডেকে সেলাই করার অযুহাতে মৃতদেহ/লাশ অত্র ক্লিনিক থেকে খুলনা পাঠানো, টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মৃতের স্বামীকে ম্যানেজ করে দ্রুত লাশ দাফনের ব্যবস্থা করাসহ বহুবিধ অভিযোগও রয়েছে ওই ক্লিনিকের সত্বাধকারী মোঃ কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়ী উন্মাদনা ও স্বেচ্ছাচারি সিজারে মৃত্যুর শিকার সোনিয়া উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের আয়ূব আলী মোল্লা ও বিউটি বেগম দম্পতির মেয়ে এবং উদয়পুর উত্তরকান্দি এলাকার সোনা মিয়া মোল্লার ছেলে রবিউল মোল্লার স্ত্রী।
সোনিয়ার মা বিউটি বেগম জানান-গত ১৭ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার মেয়ে সোনিয়াকে মোল্লাহাট কলেজ রোডের মা ক্লিনিক এ- ডায়াগণস্টিক সেন্টার-এ নিয়ে যান চেক-আপের জন্য। তখন কোন ডাক্তার ছাড়াই ওই ক্লিনিকের একটি কক্ষে তার মেয়েকে নিয়ে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করে ক্লিনিকের লোক। এরপর তার মেয়ের বুকে ব্যাথা ও শ্বাস কষ্ট শুরু হয় এবং ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন ক্লিনিকের মালিক কামরুজ্জামান (কামরুল)কে অসুস্থ্যতার কথা জানালে তিনি বলেন, এরকম হয়ে থাকে, কোন অসুবিধা নাই, এখনই সিজার করতে হবে। এরপর কোন ডাক্তার ছাড়াই ১০টার দিকে সোনিয়াকে ওটিতে নিয়ে যায়। আমি ওটিতে যেতে চাইলে আমাকে বলে বাহিরে থাকো। এরপর দীর্ঘ এক ঘন্টার অধিক সময় পরে আমার কোলে একটি ছেলে সন্তান দেয় এবং বলে তোমার মেয়ে ভালো আছে। এরপর আবার দীর্ঘ সময় পার হয়। আমি বার বার আমার মেয়ের খবর জনতে চাইলে তারা বলে-তোমার মেয়ে ভালো আছে। একপর্যায়ে আমার মেয়েকে ট্রলি/এসট্রেচার-এ তুলে ওটি থেকে বের করে। তখন ট্রলি ধরে নাড়া-চাড়া/ঝাকাণ্ডঝাকি করতে করতে বের করে। আমি তখন চিৎকার করে বলি আমার মেয়ের কি হয়েছে ? আপনারা নাড়াচ্ছেন ক্যান ? তখন তারা আমাকে ধমক দিয়ে বলে, তোমার মেয়ে সুস্থ্য আছে, সেলাই দিতে একটু অসুবিধা হচ্ছে, তাই খুলনা পাঠাচ্ছি। মেয়ের সাথে নিচে নেমে দেখেন একটি এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনা হয়েছে। এরপর আমার মেয়েকে এ্যাম্বুলেন্সে তোলে এবং আমাদেরেকে গাড়িতে উঠতে বলে। আমরা উঠলেও ওই ক্লিনিকের কেউ না ওঠায় আমি বলি আপনারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলছেন, তার পরও ওরা জোর করে বলে সেলাই দিলে ঠিক হয়ে যাবে। এরপর খুলনা যাওয়ার পথে আমি বার বার আমার মেয়ের হাত ধরে পাল্স দেখার চেস্টা করি এবং বেঁচে থাকার কোন নমুনা বা সাড়া পাই নাই। তবুও ওদের কথামতো খুলনা একটি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তার দেখে বলেন-অনেক আগেই এ রুগীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর আমার মেয়েকে নিয়ে উদয়পুর উত্তকান্দি জামাই রবিউলের বাড়ি নেয়া হয়। ওই ক্লিনিকের মালিক কামরুল জামাই রবিউলকে একলক্ষ টাকা দেয় এবং তড়িঘড়ি করে সন্ধার আগেই লাশ দাফন করায়। মৃত সোনিয়ার পিতা আয়ূব আলী মোল্লা ও মা বিউটি বেগমসহ শোকাহত পরিবারের সকলে জঘণ্যতম ওই ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবী করেন।
এ বিষয়ে সোনিয়ার স্বামী রবিউল মোল্লা বলেন-আপনারা (সাংবাদিক) যা জিজ্ঞেস করবেন, সত্য কথা বলবো, তবে আমার স্ত্রীকে কবর থেকে উঠিয়ে কাটা-ছেড়া করতে দেবো না।
মা ক্লিনিক এ- ডায়াগণস্টিক সেন্টারের মালিক মোঃ কামরুজ্জামান মোবাইলে বলেন-বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে, এরকম তো অনেক হাসপাতালে অনেকে মারা যায়, তাতে দোষের কি ? যেহেতু দোষের কিছু না-সেহেতু মিমাংসার দরকার ছিল কি ? এমন প্রশ্নের উত্তরে কামারুজ্জামান বলেন-মিমাংসা করাটা আমার ভূল হয়েছে।
এবিষয়ে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন-চিকিৎসক (সার্জন) ও চিকিৎসক (অবশ) ব্যতিত সিজার করার কোন নিয়ম নাই। ওই বিষয়ে কোন অভিযোগ পান নাই। অভিযোগ পেলে তিনি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই ক্লিনিকের কাগজপত্র হাল-নাগাদ করা নাই। বেশ কিছুদিন পূর্বে হালনাগাদ করার জন্য তাদেরকে নোটিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।