প্রথমে ‘বায়ো-সিকিউর’ বিধি ভেঙে শাস্তি পাওয়া। এরপর বর্ণবাদের শিকার। গত কয়েকদিনে জফ্রা আর্চার খবরের শিরোনাম মাঠের বাইরের নানা ঘটনায়। ক্যারিবিয়ান পেস কিংবদন্তি ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল হোল্ডিংয়ের পরামর্শ, মাঠের বাইরের সবকিছু পেছনে ফেলে ক্রিকেটে গ্রেট হয়ে ওঠায় মন দেওয়া উচিত আর্চারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুক্রবার শুরু হওয়া শেষ টেস্টের ইংল্যান্ড একাদশে জায়গা পেয়েছেন আর্চার। ইংলিশদের ব্যাটিংয়ের প্রথম দিনে অবশ্য কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়নি এই পেসারের। গত টেস্টে বাদ পড়া ও জরিমানা গুনতে হওয়া, এর পরপর বর্ণবাদ নিয়ে তোলপাড়, এসবের পর আর্চারের পারফরম্যান্সে থাকবে বাড়তি আগ্রহ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও তুলনামূলক নবীন একজনের জন্য এটা হতে পারে বড় চাপ। তবে স্কাই স্পোর্টসে হোল্ডিং বললেন, এই ইংল্যান্ড দলে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হওয়ার কথা নয় আর্চারের জন্য। “ সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না কাজটি ততটা কঠিন হবে। যে পরিবেশে সে আছে, এমন একটি দলে খেলছে, যারা মাত্রই আগের টেস্ট জিতেছে। ইংল্যান্ড দলে সে বন্ধুদের সঙ্গেই আছে। বেন স্টোকস তার কাছের একজন, যে কিনা খুবই আন্তরিক ও ইতিবাচক মানসিকতার একজন মানুষ।” ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৬০ টেস্টে ২৪৯ উইকেট শিকারি হোল্ডিংকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন। আর্চারকেও তিনি দেখতেন চান গ্রেট হয়ে উঠতে। “ তার উচিত, দলে সম্পৃক্ত থাকা, বাইরের হইচই সব ভুলে যাওয়া এবং নিজের কাজটুকু করা। গ্রেট বোলার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তার আছে। সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত তার।” বর্ণবাদের শিকার হওয়ার ধাক্কা সামলে ওঠা কঠিন, এটি অবশ্য মানছেন হোল্ডিং। আর্চারকে করণীয়টুকও বাতলে দিলেন তিনি। “ কাজটি সহজ নয়। জাত নিয়ে যখন কটুকথা বলা হয়, গায়ের রঙ, ধর্ম, বা শারীরিক যে কোনো কিছু, এমনকি বাড়তি ওজন নিয়েও যখন খোঁচা দেওয়া হয়, তখন তা সামলে ওঠা কঠিন। কিন্তু নিজের কাজে মন দিলেই হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এজন্যই কখনও আমার এসবে কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না। এসব সামলাতে হলে মানসিকভাবে খুব শক্ত হতে হয়।” হোল্ডিংয়ের মতে, ইংল্যান্ড দলের সবার উচিত, আর্চারকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে সহায়তা করা। “ আমি জানি না ইংল্যান্ড দলের ভেতরের পরিবেশ কেমন। তবে এটা জানি, সফল একটি দলে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকে ও পরস্পরের পাশে থাকে। এই মুহূর্তে আর্চারের এটিই প্রয়োজন খেলায় মন দিতে এবং বাকি সব ভুলে থাকতে।”