৩৪ বছর বয়সে যখন কোনো পেসার একাদশে জায়গা হারান, তখন সেটি একরকম বার্তাও। বাজতে শুরু করেছে বিদায় ঘণ্টা! তবে স্টুয়ার্ট ব্রড নিজের শেষ দেখছেন না সহসাই। বরং তার হৃদয়ে ঝংকার তুলছে আরও অনেক দিন খেলার স্বপ্ন। এই ইংলিশ পেসার প্রেরণা খুঁজে নিচ্ছেন দীর্ঘদিনের সতীর্থ জিমি অ্যান্ডারসনকে দেখে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন ব্রড। টেস্টের মাঝপথেই সেটি নিয়ে জানিয়েছিলেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। দ্বিতীয় টেস্টে তিনি সুযোগ পেয়েছেন, এবার তার হয়ে কথা বলেছে পারফরম্যান্স। চতুর্থ দিন বিকেলে তিনিই ঘুরিয়ে দিয়েছেন ম্যাচের মোড়। দ্বিতীয় নতুন বলে দুর্দান্ত এক স্পেলে ফেরান থিতু হয়ে যাওয়া শামার ব্রুকস ও গত টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের দুই নায়ক জার্মেইন ব্ল্যাকউড ও শেন ডাওরিচকে। ব্রডের সৌজন্যেই জিইয়ে আছে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা। দিনের খেলা শেষে শুধু এই টেস্ট নয়, গত মাসে ৩৪ পূর্ণ করা ব্রড কথা বললেন তার ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়েও। টেস্ট ইতিহাসের সফলতম পেসার অ্যান্ডারসনের বয়স আর ১০ দিন পর হবে ৩৮ বছর। এই বয়সেও তিনি দলের বড় ভরসা। আরও কয়েক বছর খেলতে চান বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। এবার ব্রডের ঘোষণা, তিনিও ছুটতে চান অ্যান্ডারসনের পথে। “আমার যা বয়স, কখনও কখনও তার চেয়ে বেশি বয়সের ক্যাটাগরিতে আমাকে ধরে নেওয়া হয়। আমার এই বয়সের পরও জিমি (অ্য্যান্ডারসন) ১৩০টির মতো উইকেট নিয়েছে, আমি কেন পারব না?” “আমি ক্ষুধার্ত, ফিটনেস ভালো। জিমির বয়স পর্যন্ত খেলা এবং ওর মতো সাফল্য পাওয়ার চেষ্টা কেন করব না! আমার মনে হয় আমি পারব এবং আজকেও সেই প্রমাণ দিয়েছি। যখন কোনো লক্ষ্য ঠিক করি, তা আমাকে আরও তীব্রভাবে ধাবিত করে।” সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলেছিলেন অ্যান্ডারসন। দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হচ্ছে ব্রডকে। এই টেস্টের আগে অধিনায়ক জো রুট ইঙ্গিত দিয়েছেন, অ্যান্ডারসন ও ব্রডের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতে তাদেরকে বেছে বেছে খেলানো হবে এবং দুজনকে একসঙ্গে খেলানোর সম্ভাবনা কম। ব্রড অবশ্য সেই ভাবনায় অবাক। অ্যান্ডারসনের সঙ্গে আবার জুটি গড়তে মুখিয়েও আছেন তিনি। “রুট সত্যিই এটি ঠিক করে থাকলে আমি খুবই বিস্মিত হব। জিমি ও আমি একসঙ্গে খুবই সফল। পরিস্থিতির কারণেই এবারের মৌসুম ব্যতিক্রম, ৬ সপ্তাহে ৬টি টেস্ট খেলতে হবে। এখানে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতেই হবে। তবে আমরা একসঙ্গেও যেমন ভালো পারফর্ম করেছি, আলাদা খেলেও ভালো করেছি।” “আমি জিমির সঙ্গে আবার খেলতে চাই এবং আশা করি সেও একইরকম ভাবছে। আমরা পরস্পরের সঙ্গে খুব ভালো মানিয়ে যাই এবং একসঙ্গে খেললে অনেক চাপ সৃষ্টি করি (প্রতিপক্ষের ওপর)। কখন আমরা আবার একসঙ্গে খেলব, এটা হয়তো নির্ভর করবে ব্যবস্থাপনার ওপর। তবে এই গ্রীষ্মেই আমরা আবার একসঙ্গে খেলব বলে আশা করি। সেটি না হলেই আমি অবাক হব।”