বেশ আগে থেকেই জিম ও মাঠ প্রস্তুত রেখেছে বিসিবি। কিন্তু সেসব ব্যবহারে নিরুৎসাহিতও করা হয়েছে বারবার। ক্রিকেটারদের কয়েকজন তবু মাঠে ফিরতে আগ্রহী। বিসিবিও শেষ পর্যন্ত দিয়েছে অনুমতি। দেশের চার স্টেডিয়ামে রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলন। আপাতত ৯ জন ক্রিকেটার যাবেন মাঠে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন অনুশীলন করবেন মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুন। ইমরুল কায়েস এখানে যোগ দেবেন সোমবার। প্রথম দিন থেকেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবেন পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ, খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে করবেন কিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ও অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে অফ স্পিনার নাঈম হাসান। প্রত্যেককে আলাদা করে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে শনিবার সূচি জানিয়েছে বিসিবি। আপাতত ১৯ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত সূচি দেওয়া হয়েছে। মিরপুরে একাডেমি মাঠে রানিং ও পাশেই জিম করার পাশাপাশি মুশফিকরা চাইলে নেট করতে পারবেন ইনডোরে। তবে কোনো নেট বোলার থাকবে না, খেলতে হবে বোলিং মেশিনে। ঢাকার বাইরের তিন ভেন্যুতে কেবল থাকবে রানিং আর জিম করার সুযোগ। বিসিবির ক্রিকেটার পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান জানালেন, ক্রিকেটারদের অনুরোধেই তারা এই ব্যবস্থা করেছেন। “রোজার ঈদের আগে কয়েকজন ক্রিকেটার আমাদেরকে বলেছিল যে মাঠে অনুশীলন করতে চায়। আমরা তখন থেকেই মাঠ ও জিম প্রস্তুত করে রেখেছি। পাশাপাশি ওদের এটাও বলেছি, এই পরিস্থিতিতে মাঠে আসা ঠিক হবে না। এরপর আর ওরা আসেনি।” “এবারও কয়েকজন চেয়েছে অনুশীলন করতে। আমরা আবারও বলেছি, সব প্রস্তুত আছে, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে নিরুৎসাহিত করছি। ওরা তবু চেয়েছে অনুশীলন করতে। আমরা নাম চেয়েছি। তালিকা নিয়ে আলাদা করে সূচি করে দেওয়া হয়েছে যেন কেউ কারও সংস্পর্শে আসতে না পারে। মাঠ, জিম, সবকিছু নিরাপদ করে তোলার চেষ্টা করেছি। তারপরও আমাদের মেডিকেল টিম সবসময় প্রস্তুত থাকবে যে কোনো প্রয়োজনে। আশা করি, ওরা নিজেরাও নিরাপদ থেকে সবকিছু করার চেষ্টা করবে।” যেহেতু নিজেদের চাওয়াতেই অনুশীলন, ইমরুল কায়েস তাই বললেন, নিজেদের সতর্কতাই বেশি জরুরি। “বিসিবি তো ব্যবস্থা করেই দিয়েছে। বাকি নিজেদের যতটা সম্ভব সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক, গ্লাভস পরা, একটু পরপর স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, মাঠে গিয়ে কারও কাছাকাছি না আসা, এসব মানতে হবে কড়াভাবে। বিসিবি কিন্তু এখনও নিরুৎসাহিত করছে যেতে। তারপরও আমরা নিজেরা চেয়েছি বলেই সুযোগ মিলেছে, এটা মাথায় রাখতে হবে।” “আমি ব্যক্তিগতভাবে শুরুতে শুধু রানিং আর জিম করব। পরিস্থিতি বুঝব। তারপর অবস্থা বুঝে সামনে হয়তো ইনডোরে ব্যাটিং করতে পারি।” আপাতত মাঠে ফিরতে পারছেন, এতেই রোমাঞ্চিত ইমরুল। “আমি শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে যাচ্ছি প্রায় ৫ মাস পর। যতোই ঘরে ট্রেনিং করি বা খুব ভালো সুযোগ-সুবিধা থাকুক, মাঠের আবহই অন্যরকম। অনেকদিন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম, কবে আবার মাঠে যাব।” নুরুল হাসান সোহান বেশ কিছু দিন ধরেই আছেন খুলনায়। নিজের মতো করে রানিং ও জিম করে যাচ্ছিলেন। ব্যাটিং অনুশীলনের জন্য বাসার সামনে নিজেই উইকেট বানিয়ে নিয়েছেন, সেখানে থ্রো ডাউন খেলছেন নিয়মিত। মাঠে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়ে তিনিও জানালেন স্বস্তির কথা। “আমি বেশ কিছুদিন ধরেই যতটা সম্ভব প্র্যাকটিস করে যাচ্ছি। তারপরও বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর একটু নির্ভার লাগছে। মাঠে গিয়ে আমি রানিং করব। বিসিবি থেকে জিমের যে সরঞ্জাম দিয়েছে, সেগুলো কাজে লাগাব। আর বাসার পাশে যে উইকেট বানিয়েছি, সেখানে ব্যাটিং করে যাব। কেউই জানি না আমরা, কবে সব ঠিক হবে। আপাতত এভাবেই চালিয়ে যেতে হবে।”