বিবাহের আট বছর পর যৌতুক দাবি আট লক্ষ টাকা। যে অন্যায় আবদার পূরণ করতে অস্বীকার করায় গৃহবধূ সানজিদা আক্তার জুইকে (৩২) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে পাষন্ড স্বামী মিজানুর রহমান। যে আঘাতের ফলে কেটে যাওয়া শরীরের অংশগুলোর জোড় দিতে সেলাই পড়েছে ৮২টি। যে দৃশ্য না দেখলেও শুধু শুনলেই শিউরে উঠে। আর সেলাই করতে গিয়েও রিতিমত হিমসিমে পড়েছিলেন অপারেশন থিয়েটারের চিকিৎসকগণকে। কারণ কোপানো হয়েছে এলোপাতাড়িভাবে। আর অস্ত্রপাচার করতে সময় লেগেছে পুরো ৪ ঘন্টা। যেন আঘাতের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল হত্যা করা। এমন নির্মমতা পূর্বের ইতিহাসকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা। রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন বসুয়া অচিনতলা এলাকায় গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোপানোর ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা আঞ্জুমান আরা বেগম গত বৃহস্পতিবার রাজপাড়া থানায় দুই জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। আর বর্তমানে ওই গৃহবধূ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে শঙ্কাহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভিকটিমের পরিবার।
মামলা সূত্রে জানান গেছে, গত ২০১২ সালে মহানগরীর চন্ডিপুর এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে মোছা সানজিদা আক্তার জুইকে বিবাহ করেন বসুয়া অচিনতলা এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান। তাদের সংসারে দুইটি কন্যা সন্তানের জন্মহয়। এরপর থেকে যৌতুকের জন্য জুইকে বিভিন্নভাবে নির্যাতনও চালায় পাষন্ড স্বামী মিজানুর। তাই মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জুইয়ের বাবার বাড়ি থেকে টিভি ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে জামাইকে দেয়া হয়।
এরপর কোপানোর ঘটনার দিন যৌতুক হিসাবে ৮ লক্ষ টাকার দাবিতে স্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে স্বামী মিজানুর। যে টাকাটি দিতে স্ত্রী অস্বীকার করায় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে স্বামী মিজানুর রহমান ও শাশুড়ি মা আকলিমা খাতুন মিলে গৃহবধূ জুইকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। তখন সুজোগ বুঝে বিষয়টি মুঠোফোনের মাধ্যমে জুই তার মা কে জানায়। আর এ ঘটনাটি জেনে যাওয়ায় স্বামী মিজানুর রহমান ও শাশুড়ি মা আকলিমা খাতুন মিলে গৃহবধূ জুইকে হাসুয়া দিয়ে কোপানো শুরু করে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে জুইয়ের দুই ভাই হাসিবুল হাসান সাগর ও রকিবুল হাসান টগর গিয়ে রক্তাক্ত মূমুর্ষ অবস্থায় তার বোনকে দুলাভায়ের ঘর থেকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে রাজপাড়া থানার ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান জানান, আসামীদের গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে।