টেস্ট ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত দু’টি সেঞ্চুরি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান পান-হাতি শাই হোপ। দু’টিই করেছিলেন ২০১৭ সালের ইংল্যান্ড। এরপর আর টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। আবারো ইংল্যান্ড সফরে হোপ। এই সফর দিয়ে আবারো টেস্টে নিজেকে ফিরে পেতে চান হোপ। তিনি বলেন, ‘টেস্টে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছি না। তবে নিজেকে ফিরে পেতে নির্মম পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আশা করি, এই সফর দিয়ে আবারো টেস্টে নিজেকে ফিরে পাবো এবং সেঞ্চুরি করতে পারবো।’ ২০১৫ সালে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টেস্ট অভিষেক হয় হোপের। তবে ২০১৭ সালে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। সেটিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। লিডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৭ রান করেন হোপ। পরের ইনিংসে অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংস খেলেছিরেন তিনি। ঐ দু’সেঞ্চুরির পর ৩৫ ইনিংস খেলে ফেললেও, সেঞ্চুরির দেখা পাননি হোপ। তবুও ওয়ানডেতে রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন অবলীলায়। গেল বছরই ওয়ানডেতে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেন হোপ। ওয়ানডেতে তার মোট সেঞ্চুরি ৯টি। অথচ টেস্টে নিজেকে প্রমান করতে পারছেন না তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক টেস্টে দু’টি সেঞ্চুরির পর, ৩৫ ইনিংস খেলে ফেললেও, তিন অংকের স্বাদ নিতে পারেননি তিনি। ৩১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১, ৪৯৮ রান করেছেন হোপ। ব্যাটিং গড় ২৭ দশমিক ২৩। অথচ ওয়ানডেতে হোপের ব্যাটিং গড় ৫২ দশমিক ২০। তাই টেস্টে নিজেকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন হোপ। এবারের ইংল্যান্ড সফর দিয়ে ওয়ানডের মত পারফরমেন্স করতে চান হোপ। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ও ওয়ানডেতে নিজের ব্যাটিংয়ের পার্থক্যের পরিবর্তন আনতে চাই। লাল বলে ব্যাটিং আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। অথচ রান ও পরিসংখ্যানের বিচারে আমি টেস্টে ভালো করতে পারছি না। তবে টেস্টে ভালো করতে পেশা করছি। এজন্য আমার প্রস্তুতির ধরণ বদলেছে। কৌশলের দিক দিয়েও নিজেকে শুধরে নিয়েছি। বড় ইনিংস খেলার জন্য নির্মম পরিশ্রম করেছি। আশা করি, এই ইংল্যান্ড সফরেই নিজেকে মেলে ধরতে পারবো এবং বড় ইনিংসের দেখা পাবো।’ টেস্টে ভালো করতে আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য্যর প্রয়োজন হয় বলে জানান হোপ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি মানসিক ব্যাপার। টেস্ট ক্রিকেটে আলাদা ফরম্যাট। এখানে প্রচুর বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকতে হয়। বড় ইনিংস খেলতে ধৈর্য্যর প্রয়োজন পড়ে। আশা করি, আমি পারব। নিজের ওপর ও নিজের সার্র্র্মর্থ্যরে ওপর বিশ্বাস রাখাটা জরুরি। উদ্দেশ্য আমি জানি, আমি করতে পারব। এমন তো নয় যে এমন সামান্য সামনে কখনও করিনি।’ ২০১৭ সালের ইংল্যান্ড সফরের স্মৃতি হোপকে আত্মবিশ্বাসী করছে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘ঐ সফরটি আমার পাশে দারুন ছিলো। এক টেস্টে দু’ইনিংসেই সেঞ্চুরি। ঐ সিরিজের অভিজ্ঞতা এবারও কাজে লাগবে। আশা করি, দলীয়ভাবেও আমরা এবার ভালো করতে পারবো। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ভালো সাধন প্রচুর শক্ত ব্যাপার। তারপরও এবার আমরা সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এখানে এসেছি।’