একটি প্রবাদ আছে, ‘একাই একশ।’ তবে ক্রিকেট তো ১১ জনের খেলা, সাকলায়েন মুশতাক তাই বিরাট কোহলিকে দেখেন ‘একাই এগারো’ হিসেবে। পাকিস্তানের স্পিন কিংবদন্তির চোখে, কোহলিকে আউট করা মানে গোটা ভারতীয় দলকেই আউট করা। খেলা ছাড়ার পর স্পিন কোচ হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি পেয়েছেন সাকলায়েন। কাজ করেছেন বিভিন্ন দেশ ও দলে। ইংল্যান্ডের স্পিন উপদেষ্টা হিসেবে সাফল্যের জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন বেশ। সে সময় বিরাট কোহলিকে নিয়ে দুই ইংলিশ স্পিনার মইন আলি ও আদিল রশিদকে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন সাকলায়েন, সেটিই তুলে ধরলেন একটি ইনস্টাগ্রাম সাক্ষাৎকারে। “ সে (কোহলি) একজন নয়, এগারো জন। আমি ওদেরকে (মইন ও রশিদ) সবসময় এটিই বলতাম যে, বিরাটকে আউট করা মানে গোটা ভারতীয় দলকে আউট করা। সে একাই ১১ জনের সমান, তাকে সেভাবেই দেখতে হবে।” “ বোলার হিসেবে নিজের ভাবনায় পরিস্কার থাকতে হবে। হ্যাঁ, সে অবশ্যই বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান যে নিজের খেলায় চূড়ায় আছে এবং কোনো ধরনের স্পিনেই যার কোনো দুর্বলতা নেই, সেটা হোক অফ স্পিন, বা লেগ কিংবা বাঁহাতি স্পিন। কিন্তু আমি সবসময় ওদেরকে বলতাম, বোলার হিসেবে দায়িত্বটা তোমার, গোটা বিশ্ব তোমাকে দেখছে। তাই নিজের পরিকল্পনায় পরিস্কার থাকতে হবে।” মইন ও রশিদের বেশ সাফল্য আছে কোহলির বিপক্ষে। দুজনই কোহলিকে আউট করেছেন ৬ বার করে। আরেক ইংলিশ স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান কোহলিকে আউট করেছিলেন ৮ বার। গত কয়েক বছরে কোহলিকে আউট করা সেরা ডেলিভারিগুলোর একটি বেরিয়েছে লেগ স্পিনার রশিদের হাত থেকে। ২০১৮ সালে হেডিংলিতে একটি ওয়ানডেতে ছিল সেই ডেলিভারি। কোহলি খেলছিলেন দুর্দান্ত, ব্যাট করছিলেন তখন ৭১ রানে। লেগ স্টাম্পের প্রায় বাইরে পিচ করা রশিদের ডেলিভারি দারুণভাবে টার্ন করে ছোবল দেয় অফ স্টাম্পের মাথায়। স্তম্ভিত কোহলি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, বল পিচ করার জায়গা আর স্টাম্পে তাকিয়ে দেখছিলেন বারবার। সাকলায়েন সেই ডেলিভারির নাম দিয়েছেন, ‘বিরাট-ওয়ালা ডেলিভারি।’ সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অফ স্পিনার বললেন, হৃদয় দিয়ে বল করলে অমন ফল পাওয়া যায়। “ রশিদের ডেলিভারিটি ছিল প্রায় ওয়াইড, ড্রিফট ছিল অনেক, পিচ করে ছোবল দেয় বেল-এ। আমি ওকে বলতাম নেটে ওই বিরাট-ওয়ালা ডেলিভারি বারবার অনুশীলন করতে। ব্যাপারটি হলো, বোলিংয়ে নিজের হৃদয় জুড়ে দেওয়া। হতে পারে সে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। কিন্তু তুমি যদি পরিকল্পনা, উদ্ভাবনী শক্তি, হৃদয় ও আবেগ দিয়ে বোলিং করো, তুমিও কম নও।” “ এক নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তার অহম থাকবেই। ডট বল করতে পারলে তার সেই অহমে চোট লাগবে। তাকে আউট করতে পারলে, সে হতাশ হবে। খেলাটা মনস্তাত্ত্বিক, নিজের মান সেখানে উচ্চতায় রাখতে হবে।”