শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোন হিসেবে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দ্রুত বোরো ধান কেটে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ মাইকিং করা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে ঘণীভূত হওয়া হচ্ছে, যা ঘূণিঝড়ে ‘আম্পান’ রুপ নিয়েছে। আগামী বুধবার সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় সহ ভারি বৃষ্টির সম্ভবনা থাকায় ইরি-বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।
এই উপজেলায় বোরো চাষীদের দ্রুত ধান কাঁটার জন্য আগাম সতর্কতা জারি করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পাকা ধানের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের সাবধান করতেই এ মাইকিং করা হচ্ছে।
এবার উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে একটি পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২০ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কৃষকরা জানান, খেত থেকে ধান কেটে নিতে কৃষি বিভাগের এই মাইকিংয়ে তাঁরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই একে ঝড়ের পূর্বাভাস মনে করছেন।
উপজেলার কাথম গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড়ি হবি বলে কৃষি বিভাগ মাইকে ধান কাটবার কচ্চে। ঝড়ির ভয়ে হামি খ্যাতত কামলা লাগে দিছি। কামলারা ধান কাটিচ্চে ঠিকই, কিন্তু বাজারত খোঁজ লিয়ে দেকনো, ধানেত দাম নেই।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর প্রভাবে নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাঠে থাকা বোরো ধানের ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক দূর্যোগে পুরো ফসল যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য মাঠে থাকা বোরো ধানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পেকে যাওয়া ধান কাটতে মাইকিং করা হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।