রাজশাহীর মোহনপুরে গভীর রাতে দোকানঘর থেকে আশরাফুল ইসলাম নামের এক কৃষককে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করে রেখে সারারাত মধ্যযুগী কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে। মোহনপুর থানার পুলিশ গিয়ে ওই কৃষককে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্থাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেছেন। এ বিষয়ে কৃষক আশরাফুল ইসলাম বাদি হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনাম আসামি করে মোহনপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার হাটরা গ্রামের বদের উদ্দিনের ছেলে কৃষক আশরাফুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে তফিজ উদ্দিনের প্রায় দেড় বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমি ভোগদখল করে আসছিল কৃষক আশরাফুল ইসলাম। গত শুক্রবার সকালে কৃষক আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী আসমা বেগম তার লোক আনোয়ার হোসেন ও আসলামকে নিয়ে ওই জমির বরো ধান কাঁটার জন্য যান। ওই সময় প্রতিপক্ষ তফিজ উদ্দিন তার লোকজন নিয়ে ধান ক্ষেতে গিয়ে মারপিট শুরু করে। প্রতিপক্ষের মারপিটে তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতরা হচ্ছেন কৃষক আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী আসমা বেগম (৪০), আনোয়ার হোসেন (২৮) ও আসলাম হোসেন (৩২)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরদিন শনিবার রাতে কৃষক আশরাফুল ইসলাম বাদি প্রতিপক্ষ তফিজউদ্দিনসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে মোহনপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগের পর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন প্রতিপক্ষ তফিজউদ্দিন। গত রোববার রাত পৌনে ২ টার হাটরা গ্রেদীর মোড়ে দোকাঘর থেকে তফিজউদ্দিন তার লোকজন নিয়ে কৃষক আশরাফুল ইসলাম (৪৬) তুলে নিয়ে যান জনৈক আবদুর রহিম উদ্দিনের বাড়িতে। সেখান তাকে সারারাত মধ্যযুগী কায়দায় নির্যাতনের পর প্রতিপক্ষ তফিজউদ্দিন তার বাড়িতে আটক করে রাখেন।
কৃষক আশরাফুর ইসলামের পরিবারের লোকজন জানান, পরদিন সোমবার সকালে খরব পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও হুমকি প্রদান করে প্রতিপক্ষ তফিজউদ্দন। থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে আহত অবস্থায় কৃষক আশরাফুল ইসলামকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করান। মোহনপুর থানার এসআই শাহীন মাহমুদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় আশরাফুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, কৃষক আশরাফুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।