মাশরাফি বিন মুর্তজা যখন অধিনায়ক ছিলেন, তার হোটেল কক্ষ সবার জন্য ছিল অবারিত। ২৪ ঘণ্টা সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল সবার। অধিনায়কের কক্ষ ছিল আড্ডা, হাসি, মজার কেন্দ্রস্থল। এখন মাশরাফি আর অধিনায়ক নেই। ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’, গানের সুর যেন এখনই শুনতে পাচ্ছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের তাই আকুতি, মাশরাফির রুমের আড্ডাটা যেন থাকে। গত মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি হিসেবে বিসিবি মনোনীত করেছে তামিমকে। মাশরাফি অধিনায়ক থাকার সময় তার কক্ষে সবচেয়ে বেশি সময় উপস্থিতি থাকত তামিমের। তিনি তাই খুব ভালো করেই জানেন, ওই সময়টুকু মনের কত বড় খোরাক। ফেইসবুক আড্ডায় সোমবার রাতে তামিম অনুরোধ করলেন, মাশরাফির রুমের আড্ডাটা যেন শেষ না হয়। “একটা কথা আমি সবাইকে একটু বলি। আমরা যখন দেশে বা বিদেশে কোনো সিরিজে থাকি, সবাইকে সিঙ্গেল রুম দেওয়া হয়। অধিনায়ক একট বড় রুম পেয়ে থাকেন। একটা রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, ওই রুমের দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, মাশরাফি ভাইয়ের রুম। সবার জন্য সবসময় খোলা। আমরা সেখানে যাই, আড্ডা দেই, খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, আমাদের দুঃখ, ভালো লাগা, সবকিছু ভাগাভাগি করি ওই রুমে।” “আমি জানি না, এই ব্যাপারটা সামনে থাকবে কিনা। আমি আশা করি, আপনি আরও অনেক দিন খেলবেন। এই ব্যাপারটা যেন সবসময় টিকে থাকেৃ।” মাশরাফি জবাবে বললেন, তার বিশ্বাস, তিনি অধিনায়ক না থাকলেও এই ধারা থাকবে। পাশাপাশি মজার ছলে এটিও বুঝিয়ে দিলেন, তার কক্ষের ওই আড্ডা কতটা সবার কাক্সিক্ষত। “তামিম, আমি যখন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াই, আমি বলেছিলাম যে আমি বিশ্বাস করি, এই দলে সেই মানুষগুলি আছে যে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না। তুই ক্যাপ্টেন্সি পেয়েছিস, সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ-মুমিনুল, সবাই অসাধারণ মানুষ। আমি নিশ্চিত, এই ধারা থাকবে। তবে অবশ্যই, তোরা আমাকে মিস করতে বাধ্য (হাসি)।”