করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা শতভাগ সফল করতে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন। কর্মহীন অসহায়, দুঃস্থ, দিনমজুর, মানতা ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী এবং অসহায় সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে শিশুদের জন্যও ঘরে ঘরে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে গোটা বরিশালবাসীর একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছেন চৌকস জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।
তার দুরদর্শীতায় কোন শ্রেনী ও পেশার লোকজনই সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হননি। এমনকি রেহাই পায়নি সরকারী চাল আত্মসাৎ করা কতিপয় প্রভাবশালী চাল চোর চক্রও। ইতোমধ্যে সরকারী চাল চুরির অভিযোগে বহিস্কার হয়েছেন জেলার দুইজন ইউপি চেয়ারম্যান ও দুইজন ইউপি সদস্য। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাভোগ করছেন চার ব্যক্তি।
সূত্রমতে, জেলার মধ্যে সর্বশেষ বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ নুরে আলম বেপারীকে বহিস্কার করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। বহিস্কারাদেশে বির্তকিত ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ওই ইউনিয়নের দুইজন ইউপি সদস্যকে চাল চুরির অভিযোগে আটক করারর পর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত কারাদণ্ড প্রদান করেন। অত্যন্ত প্রভাবশালী চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারীর বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে অনেকবার ভুমিদস্যু ও বালু খেকোর অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেননি। সে সুযোগে চেয়ারম্যানের সাথে জুটে যায় কতিপয় অসাধু ইউপি সদস্য। অবশেষে বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান সকল বাঁধা উপেক্ষা করে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃঢ় থাকায় লেজ গুটাতে হয়েছে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট নুরে আলম বাহিনীকে। ইতোমধ্যে নুরে আলম নিজ এলাকা থেকে আত্মগোপন করলেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠুকে দেওয়া হয়েছে মামলা। সহযোগি দুই ইউপি সদস্যকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসীর মতে, সরকারের সুনামক্ষুন্নকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করলে নুরে আলমের অনিয়মের শাস্তি কোনদিন হতো না।
সূত্রে আরও জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম ইউসুফ আলী ২৫৬ বস্তা সরকারী চাল আত্মসাৎ করায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একইভাবে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ৫৪ বস্তা চাল কালো বাজারে বিক্রির ঘটনায় ডিলার গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি প্রদীপ দত্তকেও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সরকারের সুনামক্ষুন্নকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানের কঠোর নির্দেশে জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে রাঘববোয়াল চাল চোর থেকে শুরু করে অসাধু ব্যবসায়ীরা কেউ রেহাই পাচ্ছে না। প্রতিদিন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জেলার দশটি উপজেলা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছেন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কঠোরতায় সঠিকভাবে ত্রাণ পাচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
শুধু ত্রাণ চোর ও অনিয়মকারীদের পিছু হেটেই কার্যক্রম শেষ করছেন না জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। দিন-রাত একাকার করে উজার করে দিচ্ছেন করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পরা দিনমজুর থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষের জন্য। সরকারি বরাদ্দের শতভাগ যেন অসহায়ের ঘরে পৌঁছে সেজন্য তিনি সার্বিক পর্যবেক্ষণ করছেন। দায়িত্ব নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি নিন্ম ও মধ্যবিত্ত মানুষকে সহায়তা পৌঁছে দিতে। এজন্য সিটি কর্পোরেশনকে বরাদ্দ দিয়েছেন ২৬০ মেট্রিক টন চাল। এ ছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য ক্রয়ের জন্য নগদ পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ পেয়ে সেগুলোই সিটি কর্পোরেশনের নামে নগরবাসীর মধ্যে বন্টন করছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এছাড়া প্রতিনিদনই করোনা প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। নিজের কাজের বিষয়ে এখন কোন মন্তব্য করতে রাজি নন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। এককথায় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা শতভাব বাস্তবায়ন করতে আমি দায়িত্ব পালন করছি।
জেলা সনাকের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা জনকণ্ঠকে বলেন, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বরিশালের জন্য যা করে চলেছেন সেটা কেবল অনন্যই নয়, এটা একটি দৃষ্টান্ত। করোনার ঝুঁকি থাকার পরেও তিনি সর্বত্র ছুটে চলছেন। স্বাস্থ্য ঝুঁকির পরেও কেবল ত্রাণ দিয়ে নাগরিকদের পাশে থাকছেন তা নয়; তিনি স্ব-শরীরে উপস্থিত হচ্ছেন করোনা ঝুঁকি কমাতে কার্যক্রম নিয়ে। কখনো রাস্তায় স্প্রে দিয়ে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন, কখনো আবার চিকিৎসকদের জন্য পিপিই সরবরাহ করছেন। কখনো ছুটে যাচ্ছেন করোনা ল্যাবের সার্বিক বিষয় জানতে। আবার কখনো নাগরিকদের সতর্ক ও সচেতন করতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায়। তিনি অতন্দ্র প্রহরীর মতো বরিশালবাসীর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিনরাত কাজ করছেন। তাই এটা বলতে আর কোন শঙ্কা নেই, এসএম অজিয়র রহমান প্রকৃতপক্ষেই বরিশালবাসীর একজন অভিভাবক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৪টি অসহায় ও কর্মহীন পরিবার। এছাড়াও তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা স্বরূপ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় বাবদ নগদ ৬২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্য বাবদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করেছে জেলা প্রশাসন। বরিশাল সিটিসহ ১০ উপজেলায় এসব ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন যারা ॥ করোনার প্রভাবে সৃষ্ট বিপর্যয়ে সমাজের দরিদ্র শ্রেণির খেটে খাওয়া পরিবারকে সরাকারি বরাদ্দের খাদ্যসামগ্রী ও চাল বিতরণে অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কাঠালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। অনিয়ম ঠেকাতে ও করোনার বিস্তাররোধে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবানে দিন-রাত সমান তালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমাদুল হক মনির এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন। যেখানেই অনিয়ম সেখানেই কঠোর অবস্থান। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রতিটি বিতরণ পয়েন্টে মোট ১৮জন ট্যাগ অফিসারসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কেবলমাত্র কর্মহীন অসহায় ব্যক্তিই খাদ্যসামগ্রী ও চাল পাবেন। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কর্মহীনদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও চাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় কর্মহীনদের জন্য সরকারি বরাদ্দের জিআর, ভিজিএফ, ১০টাকা কেজি দরের চাল, প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারসহ বিভিন্ন কাজ সুষ্ঠভাবে প্রনয়ন ও বিতরণ করা হচ্ছে। ইউএনও বলেন, সরকারি বরাদ্দের খাদ্যসামগ্রী ও চাল বিতরণে কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এমাদুল হক মনির কর্মহীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মুল কাজ হচ্ছে সরকারের নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকা। জরুরী কাজে বাহিরে গেলেও নিরাপদ দুরত্বে থাকা। আপনারা ঘরের ভিতরে থাকেন। সরকার আপনাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের সকল চাহিদা পূরণ করবে। একইভাবে আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটন নকীব করোনা প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চাল বিতরণসহ কর্মহীনদের মাঝে সুষ্ঠভাবে খাদ্যসামগ্রী ও চাল বন্টন করে আসছেন।
মোবাইলে মেসেজ দিলেই বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী ॥ ফোন করতে সংকোচ বোধ করলে মোবাইলে মেসেজ করুন খাদ্যসামগ্রী আপনার বাসায় পৌঁছে যাবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে কর্মক্ষেত্র বন্ধ থাকায় চুলায় আগুন জ্বলছেনা অনেক খেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের মানুষের। তাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশনায় রাজধানীর বিভিন্নস্থানে উপহার নিয়ে দরিদ্র, কর্মহীন ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত বরিশালের কৃতী সন্তান ও বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সস্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগ নেতা সোহেল শাহরিয়ার রানা। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহেল শাহরিয়ার রানার নিজস্ব অর্থায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার এক হাজার পরিবারের বাসায় রমজানের উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে হতদরিদ্রের দুয়ারে দুয়ারে এসব উপহার পৌঁছে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা সোহেল শাহরিয়ার রানা। এ ছাড়া রমজানে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টের মানুষ যাতে বিনামুল্যে সবজি সংগ্রহ করতে পারেন তিনি সেই ব্যবস্থাও করছেন। রাজধানীর যেকোনপ্রান্ত থেকে অসহায় যে কেউ যোগাযোগ করলেই কয়েকটি টিমের মাধ্যমে তাদের বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সোহেল শাহরিয়ার রানা। এর আগে এ টিমের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিকেরও বেশি পরিবারের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ দিনে ও রাতে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। ফোন ও মেসেজ পেয়ে গত কয়েকদিন যাবত তিনি শিশুদের জন্য বাসায় দুধসহ বাচ্চাদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
সোহেল শাহরিয়ার রানা জনকণ্ঠকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কোন মানুষ যেন না খেয়ে থাকে সেই লক্ষ্যে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ভাইয়ের নির্দেশনায় বরাবরের মতো এবারও নগরীর বেশ কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানোর চেষ্টা করেছি। মধ্যবিত্ত কিছু পরিবার খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়াতে সংকোচ করে, তাদের ফোনকল বা মেসেজ পেলে আমরা তাদের বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।