বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের তারাপুরে পুর্ব ঘটনার জের ধরে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাইয়েরা মিলে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মীকে ধরে-বেঁধে মারপিট এবং সরকারী নথি ছিনিয়ে নেয়া এবং দীর্ঘক্ষন আটকে রাখার অভিযোগ মিলেছে। অভিযোগ পেয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়ে ওই নির্যাতিত বিদ্যুৎ কর্মীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অপরাধীকে গ্রেফতার বা আইনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ফলে ওই গ্রামবাসী এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বিক্ষব্ধ হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের সাবেক সদস্য আছির উদ্দিন ওরফে বুদু শাহ’র ছেলে সোহেল হোসেন সান্তাহার পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার নতুন বাড়ির একাংশে দলীয় কার্যালয় করা হয়েছে। এই দলীয় কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা বলে অবৈধ সংযোগ নেয় এবং ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চার্জার গ্যারেজ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। এ বিষয়টি উৎঘাটন করেন ওই এলাকার দায়ীত্বে থাকা মিটার রিডার মতিউর রহমান। তিনি ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর বিগত বছরের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাগণ অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মিটার-তার জব্দ করেন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল বিদ্যুৎ কর্মী মতিউর রহমানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার মিটার রিডার মতিউর তারাপুর-কাশিপুরে মিটার রিডিং নেয়ার কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহেল শাহ তার দুই ভাইকে নিয়ে মিটার রিডার মতিউর রহমানের উপড় চড়াও হয়। তাকে ধরে মারপিট এবং তার সাথে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের নথিপত্র ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখে। এসব ঘটনা চলার একপর্যায়ে মতিউর ঘটনাটি মোবাইল ফোনে সান্তাহার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী (আবাসিক) প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী রোকোনুজ্জামন মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ইউএনও এ,কে,এম আব্দুল্লা বিন রশিদ ওই গ্রামে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার হাতে আটক বিদ্যুৎ কর্মীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু সংবাদ পাঠানো সময় পর্যন্ত নির্যাতনকারি সোহেল শাহ ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করা বিষয়ে ইউএনও গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ঘটনাস্থলে আওয়ামী লীগ নেতা সোহেলের বিরুদ্ধে এবং বিদ্যুৎ কর্মী মতিউরের পক্ষে কোন স্বাক্ষী মেলেনি। ফলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।