কোন সংস্পর্শ ছাড়ায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মুনসুর রহমান নামে ৮০ বছর বয়সী আরেক বৃদ্ধের করোনা (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। তার বাড়ি ওই উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের নওনগর গ্রামে। করোনা শনাক্তের পরই তার বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। আর যারা ওই বৃদ্ধের সংস্পর্শে ছিলেন তাদেরকেও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। আর আক্রান্ত বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আপাতত তার বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতালে নেয়া হবে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জানান, মোহনপুরের এই বৃদ্ধ সর্দি-জ্বর-কাশিতে ভুগছিলেন। খবর পেয়ে গত শনিবার তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় রোববার তার করোনা শনাক্ত হয়।
আক্রান্ত মুনসুর রহমানের পরিবারের ঊদৃতি দিয়ে সিভিল সার্জন জানান, এই বৃদ্ধ বাড়িতেই থাকেন। কোথাও যাননি। তার বাড়িতে ঢাকাণ্ডনারায়ণগঞ্জের মতো আক্রান্ত এলাকা থেকে কেউ আসেওনি। কিন্তু তার করোনা পজিটিভ।
তিনি বলেন, মোহনপুরে এর আগেও একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বৃদ্ধের বাড়ি থেকে সেই গ্রাম অনেক দূর। ফলে তিনি কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে বাঘা উপজেলায় আক্রান্ত কুলা বিক্রেতা আবদুস সোবহান (৮০) রোববার (২৬ এপ্রিল) মৃত্যু বরণ করলেও তিনি কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেও জানান সিভিল সার্জন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীতে গত ১২ এপ্রিল প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আটজন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় পাঁচজন, বাগমারায় একজন, মোহনপুর একজন ও বাঘা উপজেলায় একজন। বাঘার বৃদ্ধ মারা যাওয়ায় করোনা রোগী কমে সাতজন হয়েছিল। তবে রোববার সন্ধ্যায় মোহনপুরে মুনসুর রহমান নামে আরেক বৃদ্ধ শনাক্ত হওয়ায় রোগীর সংখ্যা আটই থাকলো। এই আট রোগীর মধ্যে মোহনপুরের বৃদ্ধ ছাড়া বাকি সবাই ঢাকাণ্ডনারায়ণগঞ্জ ও গাজিপুর থেকে এসেছেন। তারা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।