বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রেমিকার বাড়ির সামনে তেঁতুল গাছের ডালে আবদুল মমিন (২০) নামে এক
যুবকের ঝুলন্ত লাশ মিলেছে। তার এ মৃত্যু রহস্যজনক উল্লেখ করে তাকে হত্যার পর গাছে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবী করেছে স্বজনেরা।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত আবদুল মমিন উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না নতুনপাড়ার শহিদুল ইসলামের পুত্র।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার ভোরে আবদুল মমিনকে নিজবাড়ির অদূরে তার প্রেমিকার বাড়ির তেঁতুল গাছের ডালের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। আবদুল মমিন কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। তার মা-বাবা দু’জনই প্রতিবন্ধি।
তারা জানায় প্রতিবেশী আজিজুল হকের ৭ম শ্রেণীতে পড়-য়া মেয়ের সাথে আবদুল মমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত সোমবার রাতে ওই মেয়ের গোপনে বিয়ে দিয়ে দেয় তার অভিভাবকেরা। একারণে আবদুল মমিন আত্মহত্যা করতে পারে আবার তাকে হত্যা করে ঝুলিয়েও রাখতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।
নিহত আবদুল মমিনের ফুপাতো ভাই আলম জানান, চার দিন আগে মেয়ের অভিভাবকের কাছে বিয়ের প্রস্তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা করোনার কারণে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। অথচ গত সোমবার রাতে মেয়ের অভিভাবকেরা শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় এক আত্মিয়ের বাড়িতে গোপনে মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেন। এনিয়ে মেয়ের অভিভাবকের সাথে মমিনের দ্বন্দ হয়ে থাকতে পারে। যার কারণে তারা আবদুল মমিনকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
শাজাহানপুর থানার এসআই ওহিদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তেঁতুল গাছের ডালের সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।