বগুড়া সারিয়াকান্দির দুর্গম চরের পল্লীতে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্য সংঘর্ষে শহীদুল ইসলাম আকন্দ (৪০)নামের এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নারী পুরুষ সহ কমপক্ষে ১১জন। ঘটনটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলার শোনপোচা ডাকাতমারা বাজার এলাকায়। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে মর্মে আশঙ্কা করা হয়েছে।
নিহত শহীদুল ইসলাম আকন্দ উপজেলার চরশোনপচা গ্রামের শাহজামাল আকন্দের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের চরশোনপচা যমুনা নদীর চরে এলাকায় জমাজমির দখল ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রাম বাসীর মধ্য সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় ফালা তীর বল্লম ফালা সহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় গোটা এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হলে গোটা অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় পরস্পর বিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর একটি সূত্র জানায়, যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরে ৮/১০ বিঘা জমির বিরোধের জের ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে। অন্যদিকে অপর একটি সূত্রে দাবী করা হয় এলাকার জনৈক সাত্তার ব্যাপারী নামের এক ব্যবসায়ীর মেয়েকে তার স্বামী তালাক দেয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানায় এলাকার আধিপত্য নিয়ে এলাকার দুটি প্রভাবশালী মহলের কারণে গ্রামের বিবাদমান দু’পক্ষ বিকেল থেকেই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখী অবস্থান নেয়া শুরু করে। পরে তাদের মধ্য রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ বেধে যায়।
এসময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদুল ইসলাম আকন্দ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১১জন। আহতদের মধ্য বেশ কয়েকজনকে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। শেষ খবর পর্যন্ত আহতদের মধ্য কমপক্ষে ২জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ ( ওসি সার্বিক) আল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার লাশ উদ্ধার করে আনার পর বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন ,তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয়েছে।
শেষ খবর পর্যন্ত এ ঘটনায় পাল্টা পাল্টি মামলার প্রক্রিয়া চলছিল।