বগুড়ার ধুনটে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা এবং অবহেলার কারনে সরকারী মহতী উদ্যোগ ফোয়ার প্রাইজ মানি(খাদ্য বান্ধব) কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি চাল আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া নাম, মৃত ব্যক্তি ও কার্ড বিতরণ না করেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং ডিলারদের যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবত এসব চাল আতœসাত হয়ে আসছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ২০ জন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে ১৪ হাজার কার্ডধারীকে বছরে ৫ বার ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তালিকায় নাম থাকলেও কার্ড আটকে রেখে হতদরিদ্র মানুষদের চাল দেয়া হয়নি। এছাড়াও তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও ভুয়া নাম দিয়ে সরকারি চাল আতœসাত করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ প্রায় সব ইউনিয়নেই।
ধুনট উপজেলার বড়বিলা গ্রামের অনিতা রানি, শেফালি রানি, চায়না রানিসহ বেশ কয়েকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের তালিকায় অন্তভুক্ত করা হলেও ওই গ্রামে কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস নেই। তাদের বাড়ি চুনিয়াপাড়া গ্রামে। অথচ তাদের নামে ভুয়া কার্ড তৈরী করে চাল আতœসাত করা হয়েছে।
এছাড়া বড়বিলা গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী সেফালী খাতুন ও হাবিবুর আকন্দের স্ত্রী জহুরা খাতুনের নাম তালিকায় অন্তভুক্ত থাকলেও তাদেরকে কোন কার্ড দেওয়া হয়নি। তাদের নামেও চাল আতœসাত করা হয়েছে।
একই গ্রামের আব্দুল আলিম, জহুরা খাতুন ও চুনিয়াপাড়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কুমারী সোহাগী সহ প্রায় অর্ধশত লোকদের তালিকায় নাম থাকলেও তারা কখনও চাল পায়নি। কেউ কেউ তাদের নাম আছে কিনা তাও জানেনা।
বড়বিলা গ্রামের হাবিবুর আকন্দের স্ত্রী জহুরা খাতুন জানায়, কয়েকদিন আগে তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি জানতে পেরে ডিলারের কাছ থেকে চাল নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চাল না দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা বেগম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল হাসান মুকুল ও মজনু মেম্বর সহ কয়েক মেম্বররা মিলে ডিলার ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী লিটনের যোগসাজসে ভূয়া নাম ও কার্ড বিতরণ না করেই চাল আতœসাত করে আসছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ড তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে সব অনিয়মের কাহিনি।
তবে এবিষয়ে তথ্য প্রমান হাতে থাকলেও গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের ডিলার আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত আলী লিটন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তালিকা তৈরী করেছেন। তাই চাল আতœসাতের সাথে তিনি কোন ভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল হাসান মুকুল বলেন, কেউ কার্ড বা চাল না পেলে বিষয়টি খুঁজে দেখা হবে। তবে তিনি জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (অতিঃ) রবিউল ইসলাম বলেন, আমি শেরপুর উপজেলায় কর্মরত আছি। কিন্তু ধুনট উপজেলায় খাদ্য কর্মকর্তা না থাকায় সপ্তাহে দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২০১৬ সালের দিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের মাধ্যমে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির এসব তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তাই কিছুটা অনিয়মের কারনে কিছু ডিলার বাতিল এবং তালিকাগুলো সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, সরকারি চাল আতœসাতের বিষয় প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।