করোনা বিপর্যয়ে সমাজের স্বল্প ও নিন্মআয়ের মানুষদের উপার্জন কমে গেছে। এরইমধ্যে রমজান উপলক্ষে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বাড়তে শুরু করেছে। করোনা সংকট মোকাবেলার অংশহিসেবে সরকার দুঃস্থ মানুষদের যে ত্রাণ দিচ্ছে সেখানে শুরু হয়েছে হরিলুট। এত কিছুর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাতে ফুঁটে উঠেছে অব্যবস্থাপনা। এগুলো সবই বর্তমানে দেশের চালচিত্র বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা।
রোববার বেলা সাড়ে এগারোটায় করোনা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সভা করেছে সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। নগরীর ফকিরবাড়ী রোডস্থ মাতৃছায়া স্কুল সংলগ্ন বাসদ কার্যালয়ে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দেশে করোনা শুরু হওয়ার আগে থেকেই আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। প্রথমে সচেতনা মূলক প্রচারণা এরপর থেকে ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। তবে এ কার্যক্রম সমন্বিত উদ্যোগ হলে ভালো হয়। তাই আজকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ৩০টি সংগঠনের মধ্যে ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এখানে এসেছেন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে করোনায় সামনের অর্থনৈতিক মন্দার দিনগুলো কিভাবে পার হবে তানিয়ে কাজ শুরু করা হবে।
বাসদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হাবিব রুম্মনের সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল মেডিসিন বিশেষঞ্জ চিকিৎসক প্রফেসর এইচএম সরকার, জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, মাক্সবাদী দলের জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, বরিশাল উদিচীর সভাপতি সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য শেখ সুমন, তরুন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য কামরুন নাহার মোহনা প্রমুখ।
এর আগে শনিবার সকালে করোনা সংকট মোকাবেলায় অসামঞ্জস্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে দলটির নেতৃবৃন্দ। নগরীতে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে করোনা মোকাবেলায় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নিয়ে ‘সর্বদলীয় মঞ্চ’ গঠনের আহবান করা হয়। বাসদ বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুম্মন জানান, সরকারি ত্রাণ লুটের খবরে সমস্ত সংবাদমাধ্যমগুলো সয়লাব হয়ে গেছে। হঠাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দামও বৃদ্ধি করা শুরু করেছে একটি মহল। কিন্তু করোনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এগুলো বন্ধ করা দরকার। এই জায়গাটাতে আমরা মনে করি সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ করা উচিত। সবাই মিলে যদি কতিপয় মানুষের এসব অভ্যাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায় তবে করোনা সংকট মোকাবেলা সহজ হবে।
এমন ভাবনা থেকেই বরিশালের সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে একটি একীভূত কার্যক্রম শুরু করার কথা ভাবছে তারা। এ ছাড়া শনিবারের সমাবেশে বক্তারা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য দ্রুত ২০০ ভেন্টিলেটর ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থাপনের দাবি করেন। এ সময় তারা করোনা রোগীদের চিকিৎসা প্রদানকারী ব্যক্তিদেরকে পরিবার থেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও বলেন।
ইমরান হাবিব রুম্মন বলেন, করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি থেকে যাওয়া আসা করে তাদের কর্তব্য পালন করছেন। এতে তাদের মাধ্যমে তাদের পরিবার এবং অন্যান্য মানুষদের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। তাই বিশেষ করে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদানকারী ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখা যায় কিনা সেটাও দেখতে হবে।
সর্বদলীয় মঞ্চ গঠনের ব্যাপারে জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মহামারীর চলমান কিংবা ভবিষ্যত প্রভাব কারো একার পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এজন্যই রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয় দরকার। বরিশালে এমন সমন্বয় সাধনের ব্যাপারে আমরা ভাবছি।
তবে এমন আহবানের ব্যাপারে মূলধারার রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে পাওয়া গেছে ভিন্নমত। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, সরকার করোনা মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের কর্মীরা সেসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করছে। এই মুহুর্তে এর বাইরে আর কিছু করার প্রয়োজনিয়তা দেখছিনা। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন শিকদার বলেন, জনস্বার্থে যেকোনো কাজ করা হলে সেটাতে বিএনপি পাশে থাকবে ও সহযোগিতা করবে।