শুক্রবার বিকেল ৪ টা। বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার রাজবাড়ি গ্রামের মেঠো পথ ধরে কিছুদুর এগোতেই চোখে পড়লো চল্লিশোর্ধ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী তাঁর দুই কিশোরী মেয়েকে নিয়ে বাড়ির দেওয়ালে মাটি লাগাচ্ছেন। বয়স চল্লিশোর্ধ হলেও বাহ্যিকভাবে দেখলে যে কেউ ভাবতে পারে বয়স অনেক বেশী। অভাব-অনটন আর কায়িক পরিশ্রমের কারণে শরীরটা যেন ভেঙ্গে পড়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে করোনার প্রভাবে হাতে কাজ আর ঘরে খাবার না থাকার চিন্তা। স্বামী বাহিরে গেছেন দুপুরের খাবারের সন্ধান করতে।
আলাপ চারিতায় চল্লিশোর্ধ নারী আরতি জানান, পরিবারে স্বামী আর ২ মেয়ে নিয়ে ৪জন। রাতে ১কেজি চাল রান্না করে আলু ভর্তা করে অর্ধেকটা খেয়েছেন ৪জন মিলে। বাঁকি অর্ধেক সকালে নুন দিয়ে পান্তা খেয়েছেন। স্বামী বাহিরে গেছে চালের সন্ধান করতে। বাজার এলে দুপুরে রান্না হবে। বাজার না এলে কি হবে জানিনা। আলাপকালে এই নারী আরো জানান, তাদের নিজেদের কোন জায়গা নেই। খাস পুকুরপাড়ে ১০/১৫টি পরিবার ঘর তুলে বাস করছেন। নেই নিজেদের কোন জমিজমা। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে জীবণ চলে। যখন কৃষিকাজ থাকে না তখন স্বামী শহরে যায় কাজের সন্ধানে। বর্তমানে কৃষিকাজ নেই। শহরে সবকিছু বন্ধ থাকায় স্বামী কাজে যেতে পারছেন না। এ কারণে অর্ধাহারে কাটছে তাদের দিন। এভাবে দিন কাটালেও এখনও চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা কোন খবর নেয়নি বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। নিত্তর স্ত্রী জানান, স্বামী শহরে মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে। করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ আছে। বাড়িতে ৫জন সদস্য নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার হচ্ছে।
সবিতা রাণী জানান, রাতে গাছের সজনা আর আলু দিয়ে ভাত খেয়েছেন। সকালে খেয়েছেন পান্তা আর কাঁচা মরিচ। গত ১মাস থেকে মাছ চোখে দেখিনি। বাড়িতে বয়স্ক শ্বাশুড়ি আছে। এতোদিন তাঁরা কোন খাদ্য সহায়তা পাননি। বাড়িতে চাল, ডাল তৈল কিছুই ছিলনা। তবে আজ সকালে শহরের এক বাবুদের বাড়ি থেকে বৃদ্ধ শ্বাশুড়িকে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তৈল, ১ কেজি লবণ ও ১ টি সাবান দিয়ে গেছে। গ্রামের আরো ১০জন বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় আরো কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী-পুরুষের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, হাতে কাজকর্ম না থাকায় তাঁরা বেকার সময় পার করছেন এবং খুব কষ্টে জীবণ-যাপন করছেন। কোন ধরণের সরকারি সহায়তা তাঁরা পাচ্ছেন না। মাঠে ধান কাটা শুরুনা হওয়া পর্যন্ত সরকারি ভাবে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য তাঁরা জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলার শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা করোনার কারণে কর্মহীন শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করে আসছি এবং তাদের বিষয়ে ভাবছি তারাও এই তালিকার মধ্যে আসবে।